Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবদ্বীপে একবছরের মধ্যেই ফের বেহাল মেরামত করা রাস্তা, ক্ষোভ

একবছর না পেরোতেই মেরামত করা রাস্তা আবার ভেঙে গিয়েছে। নবদ্বীপ শহরে ঢোকার অন্যতম প্রবেশপথ মালঞ্চপাড়ার বুড়োকালীতলা থেকে স্টেট জেনারেল হাসপাতাল যাওয়ার রাস্তাটি বেহাল দশায় রয়েছে।

নবদ্বীপে একবছরের মধ্যেই ফের বেহাল মেরামত করা রাস্তা, ক্ষোভ
  • ২৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: একবছর না পেরোতেই মেরামত করা রাস্তা আবার ভেঙে গিয়েছে। নবদ্বীপ শহরে ঢোকার অন্যতম প্রবেশপথ মালঞ্চপাড়ার বুড়োকালীতলা থেকে স্টেট জেনারেল হাসপাতাল যাওয়ার রাস্তাটি বেহাল দশায় রয়েছে। বুড়োকালীতলা থেকে গাবতলা, বাঁধরোড, কপালিপাড়া, নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতাল রোড পর্যন্ত পিডব্লুডির রাস্তাটির অবস্থা বেশ খারাপ। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির বেশকিছু জায়গায় পিচ উঠে খোয়া বের হয়ে গিয়েছে। বহু জায়গায় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে প্রতিদিনই সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে নবদ্বীপ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগী ও তাঁদের পরিজনরা। নাজেহাল যানবাহন চালকরাও। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় অ্যাম্বুলেন্স চালকদের। এই রাস্তা দিয়ে কেউ নবদ্বীপ, কেউবা বর্ধমান বা শক্তিনগর হাসপাতালে রোগী নিয়ে যান। পাশাপাশি, রাস্তার বেহাল পরিস্থিতির কারণে ছোটখাট দুর্ঘটনা লেগেই থাকছে। এই রাস্তা দিয়েই বিদ্যানগর, দাস্তিপাড়া রুটের বাস কৃষ্ণনগরে যায়। বেহাল রাস্তার কারণে বাসের যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জানা গিয়েছে, পিডব্লুডির অধীনে থাকা রাস্তাটি নবদ্বীপের মালঞ্চপাড়া বুড়োকালীতলা মোড় থেকে বেরিয়ে গাবতলা, বাঁধরোড, কপালিপাড়া মোড় হয়ে স্টেট জেনারেল হাসপাতাল রোড হয়ে রামচন্দ্রপুর ঘোষপাড়া পর্যন্ত গিয়েছে। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটির অধিকাংশই ভেঙেচুরে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বেশ কয়েক মাস আগে এই রাস্তাটি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু, কয়েক মাস না যেতেই রাস্তাটির অধিকাংশ জায়গায় খোয়া উঠে গর্ত হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে বাঁধরোড, হাসপাতাল রোডে যাওয়ার রাস্তা ভেঙে গিয়েছে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি নতুন করে তৈরি করা হোক।  নবদ্বীপ রেজিস্ট্রি অফিস পাড়ার বাসিন্দা গৃহবধূ সোমু সাহা বলেন, আমার ছেলেকে চটির মাঠ এলাকায় প্রতিদিন স্কুলে পৌঁছে দিতে হয়। রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। বাঁধরোডের বাসিন্দা ডেকরেটর ব্যবসায়ী সুকুমার ধনী বলেন, রাস্তা তৈরির ছ’মাসও পেরোয়নি, এখনই এই অবস্থা। ভেঙেচুরে গিয়েছে। ধুলোর কারণে থাকতে পারছি না। শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। নর্থ মালঞ্চপাড়া বাঁধরোডের বাসিন্দা গোবিন্দ স্বর্ণকার বলেন, এই রাস্তাটি পিডব্লুডি তৈরি করেছিল। এর আগে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে আপত্তি জানিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রাস্তা তৈরির কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এরপর ভালো সামগ্রী ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেওয়ায় আবার কাজ শুরু হয়। বাসস্ট্যান্ড এলাকার টোটো চালক অভিজিৎ দেবনাথ বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই খোয়া উঠে এমন পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে যে, রাস্তা দিয়ে টোটোয় যাওয়া যায় না। প্রচণ্ড ঝাঁকুনি হয়। এমনকী, ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এই রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বাসিন্দারা ছাড়াও নবদ্বীপ সংলগ্ন এলাকার বহু মানুষ এই রাস্তা দিয়ে স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যায়। নদীয়া হাইওয়ে ডিভিশন-১ এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কাজ শেষ হয়েছে। তখন রাস্তার উপরিতল মেরামতি অর্থাৎ সার্ফেসিংয়ের কাজ হয়েছিল। বৃষ্টিতে রাস্তার বিভিন্ন অংশ খারাপ হয়ে গিয়েছে। ওই রাস্তা সারানোর কাজের টেন্ডার ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু  হবে। • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ