সংবাদদাতা, মানকর: পূর্ব বর্ধমানের গলসি-১ ব্লকের মানকর স্টেশন বাজার থেকে হাটতলা যাওয়ার রাস্তার একাধিক জায়গা বেহাল অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকমাস আগে রাস্তার গর্তগুলিতে পিচ দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই পিচ উঠে গিয়ে পাথর বের হয়ে গিয়েছে। রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পাথর। রাস্তায় ফের একাধিক গর্ত তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে মেরামতি না হলে যেকোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাবে। পূর্তদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ওই রাস্তা সংস্কারের জন্য টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। আবহাওয়া একটু ভালো হলেই কাজ শুরু হবে। বৃষ্টির মরশুমে কাজ হলে রাস্তা ফের খারাপ হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, প্রায় ১৯ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার হবে। আপাতত গর্তগুলি ভরাট করা হচ্ছে।
মানকরের বাসিন্দারা বলেন, এই রাস্তায় যানবাহনের ব্যাপক চাপ থাকে। এই রাস্তা দিয়ে একদিকে ভাতকুণ্ডা, ছোঁড়া হয়ে এগারো মাইল, অন্যদিকে গুসকরা, কাটোয়া, বলগোনা যাওয়া যায়। সারাদিন প্রচুর বাস, লরি, ডাম্পার চলে। কিন্তু মানকর স্টেশন থেকে হাটতলা যাওয়ার রাস্তায় বকুলতলা ও দাসপাড়ার বাঁকগুলিতে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এই রাস্তার বকুলতলায় প্রথম বাঁকটি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এখানে প্রধান রাস্তটি হাটতলার দিকে যাচ্ছে। অন্য দু’টি রাস্তা মানকরে প্রবেশ করছে। সেই রাস্তা দিয়ে সহজেই এই রাজ্য সড়কের অন্য প্রান্তে ওঠা যায়। গুরুত্বপূর্ণ ওই মোড়ের সামনে রাস্তার অনেকটা অংশ খারাপ হওয়ায় দুর্ঘটনার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, রাস্তার মাঝে গর্ত তৈরি হয়েছে। গর্ত এড়াতে অনেকসময় দু’দিকের দু’চাকা ও চারচাকা গাড়ি মুখোমুখি হয়ে যাচ্ছে। ছোটখাট দুর্ঘটনাও ঘটছে। রাস্তা মেরামত করা দরকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে এখানে বড় গর্ত হয়েছিল। তখন রাস্তা সংস্কারও করা হয়। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই রাস্তা ফের বেহাল হয়ে গিয়েছে। এমনকী, সংস্কারের সময় যে পাথর দেওয়া হয়েছিল, তা রাস্তার উপরে উঠে এসেছে। রাস্তাজুড়ে সেই পাথর ছড়িয়ে রয়েছে। ডাম্পার বা বড় গাড়ির চাকায় লেগে পাথর ছিটকে আসছে। বাইক আরোহী অলোক ভট্টাচার্য বলেন, বাইকে মানকর স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলাম। বকুলতলায় একটি ডাম্পারের চালক গর্ত এড়াতে উল্টোদিক থেকে আমার সামনে চলে আসে। বাইকের গতি কম থাকায় আমি দাঁড়িয়ে পড়ি। না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেত।
বকুলতলার পাশাপাশি দাসপাড়ার দু’টি বাঁকেই গর্ত তৈরি হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, রাস্তায় বিপজ্জনক গর্ত তৈরি হয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে মানকর হাইস্কুল, বালিকা বিদ্যালয়, কলেজ সহ নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা নিয়মিত যাতায়াত করেন। মানকরে রেলগেট রয়েছে। কিছুক্ষণ বন্ধ থাকার পর গেট খুললে রাস্তায় যানজট লেগে যায়। দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও বাড়ে।
স্থানীয় কংগ্রেস নেতা তপনকুমার বিশ্বাস বলেন, রাস্তার বেহাল দশা দেখেও প্রশাসনের নজর নেই। অবিলম্বে সংস্কার না হলে যেকোনও সময় বড় বিপদ ঘটে যাবে। দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কে নেবে?-নিজস্ব চিত্র