সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: দুর্গাপুর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আশিস নগর কলোনিতে সেচদপ্তরের নির্মীয়মাণ সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় বিপত্তি ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকার প্রধান রাস্তার পাশে মাটি খনন করায় বিপদজনক হয়ে উঠেছে ওই এলাকাটি। অভিযোগ, সেতুর পাশ দিয়ে যাতায়াত করার সময়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেচ ক্যানেলের জলে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। আরও অভিযোগ, দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু না করলে মাটি ধসের কবলে পড়ে কংক্রিটের রাস্তাও ক্যানেলের জলে তলিয়ে যেতে পারে। বারংবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, দ্রুত কাজ শুরু করতে হবে ও বিপদজনক স্থানগুলিতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। যদিও সেচদপ্তরের দাবি, নবনির্মিত সেতুর কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে দুর্গাপুর পুরসভার জলের পাইপলাইন। পুরসভা পাইপলাইন না সরানোয় থমকে রয়েছে নির্মাণ। পুরসভার দাবি, বিষয়টি জানা ছিল না। দ্রুত পাইপলাইন স্থানান্তরিত করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সেচ ক্যানেলের সেতু পেরিয়ে আশিস নগর কলোনিতে যাতায়াত করেন এলাকাবাসী। কলোনিতে প্রায় তিন হাজার পরিবারের বসবাস। সেচদপ্তর থেকে ওই সেচ ক্যানেলের ওপরে প্রায় ৭০ বছর আগে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ওই সেতু দীর্ঘদিনের পুরনো হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে রয়েছে। সেচদপ্তর পুরনো সেতুটির পাশে একটি নতুন সেতু তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি বছরে প্রথমদিকে কাজও শুরু হয়েছিল। জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজ শুরু হয়েই বন্ধ হয়ে য়ায়। সমস্যা সমাধান হওয়ার পরে ফের বিপত্তি ঘটে পুরসভার জলের পাইপলাইন স্থানান্তরিত করাকে কেন্দ্র করে। এরপর সম্পূর্ণভাবে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় সেচ ক্যানেলের ভেতরে ও রাস্তার পাশে মাটি খনন করা হয়েছিল। বর্তমানে বৃষ্টির জলে সেই অংশগুলি ধসতে ধসতে ক্যানেলের জলে মিশেছে। ফলে বিপদজনক হয়ে উঠছে ওই চত্বরটি।
স্থানীয় বাসিন্দা অমূল্য হালদার ও কৃত্তিবাস দাস বলেন, পুরনো সেতুর পাশেই তৈরি হচ্ছে নতুন সেতুটি। সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় চত্বরটি বিপদজনক হয়ে রয়েছে। পুরোনো সেতুর গার্ডের রেলিং ভাঙা রয়েছে। রাস্তার পাশেই ক্যানেলের বিশাল গর্ত হয়ে গিয়েছে। কিছুদিন আগে দু’জন পড়ুয়া সাইকেল নিয়ে ওই সেচ ক্যানেলে পড়ে গিয়েছিল। একটি পণ্য বোঝাই মোটর ভ্যানও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ক্যানেলের জলে পড়ে গিয়েছিল। বারংবার দুর্ঘটনা ঘটছে। আমাদের দাবি দ্রুত কাজ শুরু করা হোক। প্রাক্তন কাউন্সিলার শশাঙ্কশেখর মণ্ডল বলেন, এলাকাবাসী দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন। আমার কাছে অভিযোগ আসছে। আমি সেচদপ্তরে জানিয়েছি।
দুর্গাপুর সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় মজুমদার বলেন, পুরসভার একটি জলের পাইপলাইন ওই চত্বরে রয়েছে। সেটি না সরালে কাজ হবে না। পুরসভাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পুরসভা ব্যবস্থা নেয়নি। পুরসভার চেয়ারপার্সন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। সেচদপ্তর সঠিক জায়গায় জানায়নি। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের দ্রুত সেখানে পাঠানো হবে এবং পাইপলাইন সরানো হবে।