নিজস্ব প্রতিনিধি, কেশপুর: শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর জন্মভিটা সাজিয়ে তোলাই প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে কেশপুর ও গড়বেতা -৩ ব্লকে প্রায় আট কোটি ১০ লক্ষ টাকা খরচ করে তৈরি হচ্ছে রাস্তা, ড্রেন। মুখ্যমন্ত্রীর হাতে গড়া মোহবনী ডেভেলপমেন্ট অথরিটির উদ্যোগে গোটা কাজটি সম্পন্ন হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, এই ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কাজের মাধ্যমে দুই ব্লকের ৫০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। শুধু কেশপুর ব্লকের ঝেঁতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের সলঙ্গা হাইস্কুল সংলগ্ন চক এলাকায় একটি রাস্তার সংস্কার হচ্ছে। ওই রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। বুধবার রাস্তা সংস্কারের কাজের সূচনায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক, কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিত্ত গড়াই সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।জেলা পরিষদের দলনেতা রফিক সাহেব বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সব সময় কেশপুরের উন্নয়ন চেয়েছেন। এছাড়া কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম সাহেব নানাভাবে সহযোগিতা করছেন। একসময় কেশপুরে যেতে মানুষ ভয় পেতেন। আজ রক্তের দাগ উন্নয়ন দিয়ে মুছে দিয়েছেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। এখন কেশপুরের অর্থনীতি বদলে গিয়েছে। মেদিনীপুরের মহকুমা শাসক মধুমিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, মোহবনী ডেভেলপমেন্ট অথরিটি একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করছে। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। কেশপুরজুড়ে পর্যটন শিল্পের বিকাশ করা অন্যতম লক্ষ্য। প্রসঙ্গত, ২০২২ সাল। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ক্ষুদিরাম বসুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মোহবনী ডেভেলপমেন্ট অথরিটি তৈরি হয়। সূচনা লগ্নে কেশপুর, গড়বেতা-৩ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আড়াই কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই টাকায় এই অথরিটির উদ্যোগে শিশু উদ্যান, রাস্তার সংস্কার সহ একাধিক কাজ করে। এরপর ২০২৪–›২৫ অর্থবর্ষে উন্নয়ন মূলক কাজের জন্য টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে নয় কোটি করা হয়। ওই টাকা খরচ করেও একাধিক প্রকল্প রূপায়িত হয়েছে। পাশাপাশি চলতি অর্থবর্ষে আট কোটি টাকা খরচে ১০টি রাস্তা ও একটি ড্রেন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বিইইউপি তহবিল থেকে বিধায়ক শিউলি সাহার সুপারিশে ১২টি প্রকল্পের জন্য ৬৫ লক্ষ টাকা খরচ করা হচ্ছে। এছাড়া এই অথরিটি ঝাড়েশ্বর, কামেশ্বর, বটেশ্বর, রসকুণ্ডু মন্দির সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে। এর ফলে ক্ষুদিরাম বসুর জন্মভিটা মোহবনী সহ কেশপুর ও গড়বেতা-৩ ব্লকে পর্যটন শিল্পের উন্নতি হবে।
এদিন মোহবনী ডেভেলপমেন্ট অথরিটির টাউন প্ল্যানার রাজর্ষি চট্টোপাধ্যায় ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সৌভিক রায় বলেন, দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। মানুষকে উন্নতমানের পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এবছরই রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ হবে। কেশপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি প্রদ্যুৎ পাঁজা বলেন, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরেই দ্রুত গতিতে উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়ন ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে।