


নিজস্ব প্রতিনিধি, জয়পুর: পুরুলিয়ার জয়পুর ব্লকে রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ না করার অভিযোগ উঠল ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। রাস্তার কাজ যাতে সম্পূর্ণ করা হয়, তার জন্য প্রশাসনের কাছে চিঠি লিখে বিষয়টি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদে দাবি, নিয়ম মেনে যেন অবিলম্বে রাস্তা নির্মাণ করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, ‘পথশ্রী-৩’ প্রকল্পে পুরুলিয়ার জয়পুর ব্লকের রোপো অঞ্চলের শালগ্রাম মেন রোড থেকে রাজু মাঝির বাড়ি হয়ে আনন্দমার্গ কলেজ পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা তৈরির জন্য বরাদ্দ হয় প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকা। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে বরাদ্দ মাত্র ০.৭৫ শতাংশ কমেই কাজটির বরাত পায় একটি ঠিকাদার সংস্থা। যদিও অভিযোগ, রাস্তাটি আনন্দমার্গ কলেজ পর্যন্ত এসে পৌঁছয়নি। আড়াইশো মিটার আগেই শেষ হয়েছে রাস্তার কাজ। এনিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ জমেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শালগ্রাম, তালমু, দামড়ু, রোপো, একদুয়ার, মায়াডি সহ আশপাশের বহু গ্রামের বাসিন্দা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। কলেজের পড়ুয়ারাও যাতায়াত করেন এই রাস্তা দিয়ে।
বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এই রাস্তাটি যাতে নির্মাণ করা হয়, তার জন্য প্রশাসনের কাছে বহুবার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এবড়ো খেবড়ো, উঁচুনিচু পাথুরে জমির উপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। দুর্ঘটনা ঘটে প্রায়শই। বর্ষায় রাস্তা পার হতে বেগ পেতে হয়। তাই রাস্তাটির যখন সংস্কার হবে বলে বাসিন্দারা জানতে পারেন, তখন বাসিন্দাদের মধ্যে উত্সাহ ছিল তুঙ্গে। কিন্তু দেখা গেল, আনন্দমার্গ কলেজ পর্যন্ত রাস্তা তৈরিই হয়নি। কলেজ থেকে প্রায় আড়াইশো মিটার আগেই শেষ হয়েছে রাস্তা। তাতেই ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। ওই অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি কাজল অধিকারী বলেন, রাস্তাটি তৈরি না হওয়ায় বাসিন্দাদের খুবই সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা অবিলম্বে রাস্তাটি তৈরির দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা আনন্দনগরের রেক্টর মাস্টার আচার্য নারায়ণানন্দ অবধূত বলেন, বছর তিন-চার আগে কলেজের অদূরে ওই রাস্তার উপর একটি কালভার্ট তৈরি হয়। এই রাস্তাটি সেই কালভার্ট ছোঁয়ার কথা ছিল। কালভার্ট তৈরিতে খরচ হয়েছিল প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। রাস্তাটি যদি তৈরিই না হয়, তাহলে এত টাকা খরচ করে কালভার্ট তৈরির প্রয়োজন কী ছিল?
ওই এলাকার জেলা পরিষদের সদস্য তথা কর্মাধ্যক্ষ নীলাঞ্জনা পট্টনায়েক বলেন, যে এলাকায় রাস্তা তৈরির কথা ছিল, সেই এলাকায় রাস্তার কাজ করেননি ঠিকাদার। নিজের মতো রাস্তা করেছেন। কিছু আধিকারিকেরও এতে মদত রয়েছে। আমি বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাব। সন্তোষ দত্ত নামের ওই ঠিকাদার বলেন, ওই আড়াইশো মিটার এলাকায় পাথর রয়েছে। ফরেস্ট ল্যান্ড রয়েছে। যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, তাতে রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ করা অসম্ভব। আমি আধিকারিকদের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। তাঁদের নির্দেশ মেনেই রাস্তা হয়েছে। তবে, ওই ঠিকাদার ফরেস্ট ল্যান্ড থাকার কথা বললেও এব্যাপারে কোনও লিখিত জানাননি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। বনদপ্তরেও কোনও চিঠি করেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এনিয়ে রাস্তা নির্মাণকারী সংস্থা ডব্লুডিএসআরডিএ দপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।