


রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: তৃণমূল জমানায় বন্ধ চা বাগানের কাঁচা পাতা তুলতে দায়িত্ব দেওয়া হত কোনো ফিনান্সার বা লগ্নিকারীকে। তারা এক-দু’বছর কাঁচা চা পাতা বিক্রি করে বাগান ছেড়ে পালিয়ে যেত। ফিনান্সাররা দায়িত্ব নিলেও নামমাত্র মজুরিতে কাজ পেতেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের পিএফ, গ্রাচ্যুইটিও জমা করত না। কাঁচা পাতা বিক্রির বখরা মিলত তৃণমূল ঘনিষ্ঠ শ্রমিক নেতাদেরও। বন্ধ চা বাগান খুলতে সেই সিন্ডিকেটরাজ এবার খতম হতে চলেছে। রাজ্যে সরকার বদলের পর বিজেপি নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বন্ধ বাগানের কাঁচা পাতা তুলতে আর কোনো লগ্নিকারীকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। সেই দায়িত্ব দেওয়া হবে স্থায়ী কোনো চা বাগান মালিককে। যিনি বন্ধ চা বাগানের দায়িত্ব নিয়ে বাগানে ফ্যাক্টরি চালু করবেন। চাপাতা তৈরি করবেন।
আজ, বুধবার শিলিগুড়িতে উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে এই দাবির কথা জানাবেন বিজেপির চা বলয়ের এমপি, এমএলএ’রা। বিজেপির শ্রমিক সংগঠন বিটিডব্লুইউ মঙ্গলবার এই দাবির কথা চা মালিক সংগঠন ডুয়ার্স ব্রাঞ্চ অব ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশনকে (ডিবিআইটিএ)’কে জানিয়েও দিয়েছে। বিটিডব্লুইউ-এর সাধারণ সম্পাদক রাজেশ বারলা বলেন, এই সিদ্ধান্তের কথা অপর দু’টি চা মালিক সংগঠন ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টেশন অ্যাসোসিয়েশন (আইটিপিএ) ও টি অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়াকেও (টাই) জানিয়ে দেওয়া হবে।
বর্তমানে আলিপুরদুয়ার জেলায় মধু, লংকাপাড়া, রামঝোরা, জলপাইগুড়ি জেলায় চামুর্চি, আমবাড়ি, রেডব্যাংক ও রায়পুর এই সাতটি চা বাগান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। এর আগে তৃণমূল সরকারের জমানায় বহু বন্ধ বাগানের কাঁচা চা পাতা তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল লগ্নিকারীদের। রাজ্যে সরকার বদলের পর এবার ফিনান্সারকে বন্ধ চা বাগানের কাঁচা পাতা তোলার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল হতে চলেছে।
এমপি মনোজ টিগ্গা বলেন, উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে আমরা বিষয়টি তুলে ধরব। আমাদের চা বলয়ের বিধায়করা এই সিদ্ধান্ত বদলের কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন। সিন্ডিকেটরাজ আমাদের সরকার বন্ধ করবে। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে বলব স্থায়ী মালিক থাকলে শ্রমিকদের নিয়মিত পিএফ, গ্রাচ্যুইটি জমা হবে। শ্রমিকদের অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও মিলবে। স্থায়ী বাগান মালিক থাকলে শ্রমিকদের ২৫০ টাকা দৈনিক মজুরিও মিলবে।