


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: স্বাস্থ্যে সিন্ডিকেটরাজ ভাঙা হবে বলে সাফ জানালেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। মঙ্গলবার তিনি বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেন, দালালরাজ বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া সরকারি চিকিৎসকরা যাতে নির্দিষ্ট সময় ডিউটি করেন তা দেখতে হবে। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক বলেন, শহরে ব্যাঙের ছাতার মতো নার্সিংহোম তৈরি হয়েছে। বহু নার্সিংহোমের পরিকাঠামো নেই। কীভাবে অনুমতি পেয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তা নিয়ে তদন্ত করা হবে। আগামী দিনে সব নার্সিংহোমকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। এছাড়া আরও একটি বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। অনেক রোগী সরকারি হাসপাতালে যেতে চায়। অথচ তাঁদের নার্সিংহোমে নিয়ে যায় এই সিন্ডিকেটটি। রাজ্যজুড়েই চক্রটি সক্রিয় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসকের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আগামী দিনে তা বন্ধ করা হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চক্রে অ্যাম্বুলেন্স চালক এবং মালিকদের বড় অংশ যুক্ত রয়েছে। তাদের সঙ্গে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের আঁতাত রয়েছে। কোনও রোগী নার্সিংহোমে পৌঁছে দিতে পারলেই ২০-২৫ হাজার টাকা তারা কমিশন পায়। তা তাদের কাছে ‘আইপি’ নামে পরিচিত। কমিশন দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হয়। যেসব নার্সিংহোমের পরিকাঠামো নেই তাদের সঙ্গেই চক্রটির সম্পর্ক রয়েছে। বীরভূম, মুর্শিদাবাদের রোগীরা এই চক্রের ফাঁদে বেশি পড়েন। এছাড়া কাটোয়া, কালনা থেকে কোনও রোগীকে রেফার করা হলে তাঁদের অনেককে নার্সিংহোমে নিয়ে যায়। অ্যাম্বুলেন্সে রোগীকে তোলার পরই চালকরা মগজধোলাই শুরু করে। সরকারি হাসপাতালে ঠিকমতো চিকিৎসা হয় না বলে তারা বোঝাতে থাকে। পরিবর্তে নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। সেইসময় অসহায় রোগীর পরিবারের লোকজন তাদের কথা শুনতেই বাধ্য হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই চক্রটি সক্রিয় রয়েছে। এতদিন স্বাস্থ্যদপ্তর সব জেনেও হাত গুটিয়ে বসেছিল। স্বাস্থ্যদপ্তরের চুপ থাকার পিছনেও রহস্য রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।