Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পূর্ব মেদিনীপুরের ২৩ জন পারচেজ অফিসারের চুক্তি বাতিল খাদ্যদপ্তরের

সহায়ক মূল্যে ধান কেনার কাজে পারচেজ অফিসার হিসেবে ২৩ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে নিয়োগ করেছিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা খাদ্যদপ্তর। মঙ্গলবার সবার চুক্তি বাতিল করে ছাঁটাই করে দিলেন জেলা খাদ্য নিয়ামক অভিজিৎ ধাড়া।

পূর্ব মেদিনীপুরের ২৩ জন পারচেজ অফিসারের চুক্তি বাতিল খাদ্যদপ্তরের
  • ২০ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: সহায়ক মূল্যে ধান কেনার কাজে পারচেজ অফিসার হিসেবে ২৩ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে নিয়োগ করেছিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা খাদ্যদপ্তর। মঙ্গলবার সবার চুক্তি বাতিল করে ছাঁটাই করে দিলেন জেলা খাদ্য নিয়ামক অভিজিৎ ধাড়া। অবসরপ্রাপ্ত অফিসার ও কর্মীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করার জন্য সোমবারই খাদ্য‌দপ্তর থেকে নির্দেশ আসে। তারপরই তড়িঘড়ি তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হল। এই মুহূর্তে সহায়ক মূল্যে ধান কেনার কাজ আপাতত বন্ধ। পারচেজ অফিসার হিসেবে কাদের নিয়োগ করা হবে, তা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত হবে। এর পাশাপাশি আগামী জুন মাস থেকে রেশনে আটার বদলে গম দেওয়ার প্রস্তুতিও জোরকদমে চলছে। মঙ্গলবার এনিয়ে জেলা খাদ্যদপ্তরের দীর্ঘক্ষণ ভার্চুয়াল মিটিংও হয়।

Advertisement

জেলা খাদ্য নিয়ামক বলেন, মোট ২৩ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মী প্যাডি পারচেজ অফিসার (পিপিও) হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তাঁদের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
২০২৫-২৬ খরিফ মরশুমে পূর্ব মেদিনীপুর জেলাকে মোট ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনার টার্গেট দিয়েছিল রাজ্য। এখনও অবধি ৩ লক্ষ ৯ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। মোট ৩৮টি স্থায়ী সিপিসি ছাড়াও ১২টি মোবাইল সিপিসির মাধ্যমে ধান কেনা হচ্ছিল। জেলায় খাদ্যদপ্তর ছাড়াও ইসিএসসি এবং বেনফেড বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করে ধান কিনেছে। সিপিসিতে প্রতি কুইন্টাল ২ হাজার ৩৮৯ টাকা এবং বেনফেড কিংবা ইসিএসসির মতো এজেন্সি প্রতি কুইন্টাল ২ হাজার ৩৬৯ টাকা দিয়ে ধান কিনেছে। এগরা, ভগবানপুর, পটাশপুর, চণ্ডীপুর, খেজুরি ও কাঁথি এলাকায় ধানের জোগান বেশি থাকায় ব্লকপিছু একাধিক সিপিসি খোলা হয়েছিল। 
গত বছর ১ নভেম্বর থেকে সহায়ক মূল্যে ধান কেনার কাজ শুরু করে খাদ্যদপ্তর। সাধারণত, মার্চ-এপ্রিল মাস পর্যন্ত খরিফ মরশুমের ধান কেনা হয়। তারপর মে-জুন থেকে রবি মরশুমের ধান কেনা শুরু হওয়ার কথা। খাদ্যদপ্তরে কর্মীর সংখ্যা কম থাকায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের প্রতিবছর সহায়ক মূল্যে ধান কেনার কাজে পারচেজ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। মাসে ১২ হাজার টাকা সাম্মানিকের বিনিময়ে এই নিয়োগ করা হয়েছিল। 
এবার প্রথম প্রত্যেক ধান ক্রয় কেন্দ্রে জিপিএস সিস্টেম কার্যকর করা হয়েছে। ধানের গাড়ি সিপিসি থেকে রাইস মিলে যাওয়ার সময় সেই গাড়িতেও জিপিএস সিস্টেম চালু থাকে। পারচেজ অফিসারদের এনিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানো হয়েছিল। তবে, সরকারি নির্দেশে তাঁদের ছাঁটা‌ই করে দিয়েছে জেলা খাদ্যদপ্তর। খাদ্যদপ্তরের কর্মরত কর্মীদের পারচেজ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করে চলতি মরশুমের দ্বিতীয় দফায় ধান কেনার কাজ শুরু হবে বলে খবর। এই মুহূর্তে খাদ্যদপ্তর রেশনে আটার বদলে গম দেওয়া নিয়ে বেশি জোর দিয়েছে। আগামী জুন মাসের শুরু থেকেই আটার পরিবর্তে গম দেওয়ার কাজ শুরু হবে বলে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা খাদ্য নিয়ামক জানিয়েছেন।-ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ