Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আট বছর আগে রাস্তা তৈরি হলেও সেতু হয়নি, মন্দারমণি যাতায়াতে ভোগান্তি অব্যাহত

রাস্তা তৈরির পর আট বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু আজও পর্যটন কেন্দ্র মন্দারমণি যাওয়ার বিকল্প ওই রাস্তার উপর সংযোগকারী ব্রিজ তৈরি হয়নি।

আট বছর আগে রাস্তা তৈরি হলেও সেতু হয়নি, মন্দারমণি যাতায়াতে ভোগান্তি অব্যাহত
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: রাস্তা তৈরির পর আট বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু আজও পর্যটন কেন্দ্র মন্দারমণি যাওয়ার বিকল্প ওই রাস্তার উপর সংযোগকারী ব্রিজ তৈরি হয়নি। পর্যটকরা রাস্তাটি ব্যবহার করতে পারছেন না। শুধু সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। রামনগর-২ ব্লকের সাপুয়ায় দীঘা-নন্দকুমার ১১৬বি জাতীয় সড়ক থেকে মন্দারমণি যাওয়ার রাস্তায় সিলামপুরের কাছে তরসিয়া খালের উপর এই ব্রিজ তৈরির জোরালো দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দা এবং হোটেল-লজ ব্যবসায়ী, পর্যটকরা সকলেই। জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মন্দারমণি। পর্যটক কিংবা বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা কাজে মন্দারমণি আসা মানুষজনকে জাতীয় সড়কে চাউলখোলা বাসস্টপে নেমে যেতে হয়। কিংবা কাঁথির শৌলা হয়ে মন্দারমণি যাওয়া যায়। চাউলখোলা থেকে মন্দারমণির দূরত্ব প্রায় ১৫কিলোমিটার। শৌলা থেকেও দূরত্ব প্রায় ১৫কিলোমিটার। তবে ব্রিজটি তৈরি হলে সাপুয়ায় জাতীয় সড়ক থেকে মন্দারমণির দূরত্বও অর্ধেক কমে যাবে এবং সহজে পৌঁছনো যাবে।  

Advertisement

মন্দারমণিকে পর্যটকদের কাছে আরও কাছে আনার লক্ষ্যকে সামনে রেখে  দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থা(ডিএসডিএ) ওই রাস্তাটি তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছিল। ২০১৭সালে সাপুয়া থেকে কন্দর্পপুর হয়ে সিলামপুর এলাকা পর্যন্ত ছ’কিলোমিটার রাস্তাটি তৈরি করে ডিএসডিএ। রাস্তাটির সিংহভাগ কাজ ওই বছরই শেষ হয়ে গিয়েছে। শুধু সিলামপুর মৌজায় খাল পর্যন্ত সামান্য অংশের কাজ বাকি রয়েছে। খাল পেরলেই মন্দারমণি এলাকা। কিন্তু ব্রিজ তৈরি না হওয়ার কারণে রাস্তার বাকি কাজ হয়নি। ডিএসডিএর উদ্দেশ্য ছিল, মন্দারমণির সঙ্গে দ্রুত সংযোগ স্থাপন করা। এতে বেড়াতে আসা পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপকৃত হবেন। বাসিন্দারা চাউলখোলা হয়ে অনেকটা পথ ঘুরে না গিয়ে সাপুয়া দিয়ে সহজে মন্দারমণি পৌঁছে যেতে পারবেন। আশপাশের সিলামপুর, সোনামুই, দাদনপাত্রবাড় সহ সংশ্লিষ্ট কালিন্দী ও পার্শ্ববর্তী সটিলাপুর পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে খুবই সুবিধা হবে। সব মিলিয়ে পর্যটক, এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াত কিংবা পণ্য পরিবহণ-সব ক্ষে঩ত্রেই সুবিধা হবে। এতে সময় ও অর্থ অনেকটাই সাশ্রয় হবে। কিন্তু ব্রিজ না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। এনিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষোভের শেষ নেই। 
কন্দর্পপুরের বাসিন্দা সুশান্ত দাস বলেন, ৩০ফুটের চওড়া রাস্তা তৈরি হয়ে গিয়েছে। আমাদের মন্দারমণি যেতে হলে সেই চাউলখোলা কিংবা তাজপুর হয়ে ঘুরে যেতে হয়। ব্রিজটি তৈরি হলে খুব সহজেই আমরা মন্দারমণি পৌঁছতে পারতাম। রাস্তাও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত ব্রিজটি তৈরি হোক। 
উন্নয়ন সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তার পাশাপাশি ব্রিজ তৈরির পরিকল্পনা আগেই নেওয়া হয়েছিল। তারজন্য প্রশাসনিকভাবে পরিদর্শনও করা হয়। মন্দারমণির অদূরে তাজপুরে ব্রিজ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তরসিয়া খালের উপর বড় ব্রিজও তৈরি হবে বলে প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়। নানা কারণে ব্রিজের ব্যাপারে কথাবার্তা আর এগয়নি। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনুপ গিরি বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে একাধিকবার আলোচনাও হয়েছে। আগামী দিনে নিশ্চয়ই ব্রিজ হবে। ডিএসডিএর মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক নীলাঞ্জন মণ্ডল বলেন, রাস্তার কাজ বাকি রয়েছে বলে জানি। তবে ব্রিজের দাবির বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। তারপর এব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ