Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভরতপুরের গ্রামে আন্দোলনের তিন দশক পরে ঢালাইয়ের রাস্তা

গ্রামের মাটির বদলে পাকা রাস্তার দাবিতে প্রায় ৩০ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন বাসিন্দারা। শেষমেশ তাঁদের রাস্তার দাবি পূরণ হতে চলেছে।

ভরতপুরের গ্রামে আন্দোলনের তিন দশক পরে ঢালাইয়ের রাস্তা
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: গ্রামের মাটির বদলে পাকা রাস্তার দাবিতে প্রায় ৩০ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন বাসিন্দারা। শেষমেশ তাঁদের রাস্তার দাবি পূরণ হতে চলেছে। এই প্রথম রাজ্য সরকারের পথশ্রী ৪ প্রকল্পে গ্রামের মাটির রাস্তার উপর প্রায় চার কিলোমিটারের দু’টি ঢালাই রাস্তা হচ্ছে। ঘটনাটি ভরতপুর ১ ব্লকের জোরগাছি গ্রামের। রাস্তার কাজ শেষ হলে গ্রামের অন্তত হাজারটি পরিবার ছাড়াও এলাকার আরও ১০টি গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতে সুবিধা হবে।

Advertisement

ভরতপুর একের গর্দনমারা নালার পশ্চিমে জোরগাছি গ্রাম। প্রধানত নালার বাঁধের দু’পাশে বাসিন্দাদের অধিকাংশ বাড়িগুলি রয়েছে। তবে বহু বছরেও সেখানে পাকা রাস্তা হয়নি। জোরগাছি গ্রামের প্রবীণ আসিমুদ্দিন শেখ বলেন, রাস্তার জন্য প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা আন্দোলন করছি। প্রশাসন ছাড়াও বহু নেতা এমনকী, বাম আমলের মন্ত্রীদের কাছেও দরবার করেছি। কিন্তু প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই পাইনি। অপর বাসিন্দা মিরাজুল শেখ বলেন, গ্রামের রাস্তার জন্য গত কয়েকবছর ধরে একাধিক সরকারি কর্মসূচি বয়কট করা হয়েছে। ভোট বয়কটেরও ডাক দেওয়া হয়। কিন্তু রাস্তার কাজ শুরু হওয়ায় গ্রামবাসীরা সামাজিক বয়কট থেকে সরে এসেছেন।
স্থানীয় আমলাই পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, গর্দনমারা নালার প্রায় চার কিলোমিটার বাঁধের উপর মাটির রাস্তা রয়েছে। ওই মাটির রাস্তার উপর সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পথশ্রী ৪ প্রকল্পে দু’টি ঢালাই রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। একটি হল, লাটাকুড়ি বটতলা থেকে নোনাই ব্রিজ পর্যন্ত ১.৭৯৬ কিলোমিটারের ঢালাই রাস্তা। এর জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১ কোটি ১৯ লক্ষ ৮৫ হাজার ১৩৯ টাকা। অপর রাস্তাটি পাঠানপাড়া মসজিদ থেকে পেভার বুক এলাকা পর্যন্ত ১.৯৮৫ কিলোমিটারের ঢালাই রাস্তা। এটির জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১ কোটি ২৫ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮১১ টাকা। দু’টি রাস্তার কাজ শেষ হলে জোরগাছি গ্রামের পুরোটাই ঢালাই রাস্তায় ঢেকে যাবে।
সম্প্রতি ভরতপুর ১ ব্লক প্রশাসনের তরফে রাস্তা দু’টির শিলান্যাস হয়েছে। ভরতপুর ১ জয়েন্ট বিডিও সুবীর হাজরা জানান, এই রাস্তা তৈরির ফলে শুধু জোরগাছি নয়, এলাকার অন্তত ১০টি গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতে সুবিধা হবে।জোরগাছি গ্রামের প্রবীণ সামসুল হুদা বলেন, গ্রামের মাটির রাস্তায় বর্ষায় চলাফেরায় সমস্যা হত। অনেকে বাড়ি বেচে চলে গিয়েছেন। কিন্তু রাস্তার হচ্ছে দেখে গ্রামের জমির দাম বাড়তে শুরু করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ