সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: পুলিশ ও প্রশাসনের নাকের ডগায় দখল হয়ে যাচ্ছে হেরিটেজ শহর নবদ্বীপের ফেরিঘাট যাওয়ার পথ। ফুটপাত আগেই দখল হয়েছে। পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতেন। এখন আবার সেই রাস্তারও দু’ ধারে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে টোটো, ভ্যান রিকশ। ফলে ফেরিঘাট যাওয়ার পথ হয়ে পড়েছে সংকীর্ণ। হেঁটে যাতায়াত করতে নাভিশ্বাস উঠছে মানুষের। ক্ষোভ বাড়ছে তাঁদের।
শীত পড়তেই পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে চৈতন্যভূমি নবদ্বীপে। ভোর হলেই দলে দলে পুণ্যার্থী ও পর্যটকরা ভিড় করছেন মঠ মন্দির দর্শনে। কিন্তু ফেরিঘাটে পৌঁছতে তাঁদের নাজেহাল হতে হচ্ছে। ফেরিঘাটে যাওয়ার আগের চারমাথার মোড়ে রাস্তার উপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে চলছে যাত্রী ওঠানো নামানো। ফুটপাতের কিছুটা অংশজুড়ে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী দোকান বেশ কিছুটা এগিয়ে নিয়ে এসেছেন। কেউ রাস্তা দখল করে বেঞ্চ পেতে চায়ের দোকান বা খাবারের দোকান, কেউ বা রাস্তা দখল করে দোকানের পণ্য সামগ্রী সাজিয়ে রেখে ব্যবসা করেছেন। আর এর ফলে ফেরিঘাট যাওয়ার রাস্তায় প্রতিনিয়ত যানজট তৈরি হচ্ছে। দাবি উঠেছে, অবিলম্বে এই রাস্তা দখলমুক্ত করার পাশাপাশি যানবাহন নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যবস্থা করা হোক।
এই রাস্তা দিয়েই স্বরূপগঞ্জ ঘাট ও মায়াপুর থেকে ভাগীরথী পার হয়ে পড়ুয়ারা নবদ্বীপের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ এবং গৃহশিক্ষকের কাছে পড়াশোনা করতে যান। এই পথে নবদ্বীপ, স্বরূপগঞ্জ এবং মায়াপুরের মধ্যে যাতায়াত করেন নিত্যযাত্রী ও ব্যবসায়ীরাও।
নবদ্বীপ ফেরিঘাট দিয়ে নৌকা বা লঞ্চে পার হয়ে অসংখ্য মানুষ মায়াপুরে যান, কেউ আবার স্বরূপগঞ্জে যান। বড়ালঘাট ফেরিঘাট সংলগ্ন চারমাথার মোড়ে প্রতিদিনের যানজটের জন্য স্কুলের এবং অফিসের সময় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় নিত্যযাত্রীদের। নবদ্বীপ বালিকা বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী স্নেহা দেবনাথ বলে, ভাগীরথী পার হয়ে প্রতিদিনই আমাদের স্কুলে বা টিউশন পড়তে নবদ্বীপে আসতে হয়। এই যানজটের কারণে মাঝেমধ্যে স্কুল যেতে দেরি হয়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ফেরিঘাট সংলগ্ন চারমাথার মোড়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই। সে কারণে মোড়ের মাথায় ইচ্ছামতো টোটো দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো নামানো হচ্ছে। এছাড়া রাস্তার উপর প্যাসেঞ্জার দাঁড় করিয়ে কিছু টোটো চালক ভাড়া ধরতে ব্যস্ত। স্থানীয় কাউন্সিলার তথা পুর পরিষদ সদস্য মিহিরকান্তি পাল বলেন, নবদ্বীপের রাস্তাঘাট এমনিতেই সংকীর্ণ। তার মধ্যে মাঝেমধ্যে বাইরে থেকে বিরাট সংখ্যক লোকজন এসে যায়। সেই সময়ে একদম যাতায়াত করা যায় না। আমরা এই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে বারবার বলেছি। ফেরিঘাটের চারমাথার মোড়ে অবিলম্বেই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হোক। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিএসপি (ডি অ্যান্ড টি) দেবাশিস চট্টরাজ বলেন, যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে অটো টোটো ইউনিয়ন এবং ডিএসপি ট্রাফিকের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা একটা সুষ্ঠু ব্যবস্থা নিশ্চয়ই করব। প্রয়োজনে ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করব। • নিজস্ব চিত্র