


সংবাদদাতা, বহরমপুর: দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা বহরমপুর পঞ্চাননতলা থেকে ভগবানগোলা পর্যন্ত রাজ্য সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। পিডব্লুডি সূত্রে খবর, চুনাখালি থেকে ভগবানগোলা পর্যন্ত কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছে। পঞ্চাননতলা থেকে চুনাখালি পর্যন্ত ৪.৪ কিমি রাস্তা সংস্কার সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। মোট ৩১ কিমি রাস্তা সংস্কার সম্প্রসারণে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা। পিডব্লুডির বহরমপুর ডিভিশন-২ এর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুরজ দাস বলেন, রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য পূর্তদপ্ততের জায়গার দখকাররা নিজেরাই জায়গা ছেড়ে উঠে গিয়েছে। প্রয়োজনে দু’পাশের কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সংস্কারের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। জানুয়ারির মধ্যে ৩১ কিমি রাস্তার কাজ শেষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। জেলা পুলিশ প্রশাসন কর্তাদের দাবি, রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে দুর্ঘটনা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
পঞ্চাননতলা থেকে চুনাখালি এবং সেখান থেকে ভগবানগোলা রাজ্য সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। বিশেষ করে পঞ্চাননতলা থেকে চুনাখালি পর্যন্ত রাস্তাটি কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছিল। এই রাস্তার উপর বাস, লরি সহ ছোট গাড়ির চাপ থাকে। এদিকে রাস্তার দু’পাশে পিডব্লুডির জায়গা দখল করে বহু দোকান গজিয়ে ওঠায় রাস্তাটি সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত। যানজটের কবলে পড়ত। সরকারি জায়গা দখলদারদের সমস্যার কথা বলতেই সার্বিক স্বার্থে তাঁরা দোকান ভাঙতে শুরু করেন। পাশাপাশি রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য বেশকিছু গাছও কেটে ফেলা হয়। একটি কালভার্টও তৈরি করা হচ্ছে।
চুনাখালি থেকে ভগবানগোলা পর্যন্ত রাজ্য সড়ক সাড়ে পাঁচ মিটার চওড়া ছিল। সেটি বাড়িয়ে সাত মিটার করা হয়েছে। অন্যদিকে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চাননতলা থেকে চুনাখালি পর্যন্ত রাস্তাটি সাড়ে পাঁচ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১০ মিটার চওড়া করা হচ্ছে। রাস্তার দু’পাশই বাড়ানো হচ্ছে। কাজও দ্রুত গতিতেই চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই রাস্তায় পণ্যবাহী লরি ও যাত্রীবাহী বাসের চাপ অত্যধিক। প্রচুর ট্রেকার, অটো ও টোটো চলে। প্রায়ই দুর্ঘটিনা ঘটত। কদবেলতলা এলাকার বাসিন্দা অমৃত নন্দী বলেন, রাস্তা সম্প্রসারণ ও সংস্কার খুবই জরুরি হয়ে পড়েছিল। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হতো। সরকার উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা খুশি। ওই রাস্তার উপর গ্যারেজ মালিক আতিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি জায়গা দখল করেই টানা ২০ বছর ব্যবসা করেছি। সার্বিক স্বার্থে রাস্তা সম্প্রসারণের প্রয়োজনে নিজেই উঠে এসেছি।
রাজ্য সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। -নিজস্ব চিত্র