নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: গ্রাম সড়ক যোজনার রাস্তা তৈরি করতে গিয়ে হাত পড়ছে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে। তার প্রতিবাদেই রানাঘাট আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক জমির মালিক। কাজ বন্ধের সেই আবেদনের শুনানির পর খোদ নদীয়ার জেলাশাসক সহ জেলা গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কাছে জবাব তলব করে রানাঘাট মহকুমা আদালত। শুক্রবার এই নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক সুইটি যাদব।
ময়ূরহাট স্টেশন থেকে বগুলা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গ্রামীণ সড়ক তৈরি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অর্থে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের তত্ত্বাবধানে সেই রাস্তার বরাত পেয়েছেন স্থানীয় ঠিকাদার সুব্রত ঘোষ। রাজা দাস নামে মামলাকারীর অভিযোগ, ওই ঠিকাদার রাস্তা তৈরি করছেন তাঁর ব্যক্তিগত জমির ভিতর দিয়ে। তাই জমি বাঁচাতে ওই ব্যক্তি ঠিকাদার সহ নদীয়ার জেলাশাসক এবং গ্রামোন্নয়ন বিভাগের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন রানাঘাট মহকুমা আদালতে। সূত্রের খবর, সেই মামলার শুনানিতে আদালতের ফাস্ট কোর্ট জুনিয়র ডিভিশনের সিভিল জজ সুইটি যাদব সরাসরি রিপোর্ট তলব করেছেন নদীয়ার জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ সহ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং গ্রামোন্নয়ন বিভাগের ইঞ্জিনিয়াররের কাছ থেকে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা করে উত্তর দিতে বলা হয়েছে আদালতকে। বিষয়টি নিয়ে মামলাকারী রাজা দাস বলেন, আমার জমির চার থেকে পাঁচ ফুট ছেড়ে আমি পাঁচিল দিয়েছিলাম। যাতে রাস্তার সঙ্গে আমার জমির দেওয়ালের উপযুক্ত দূরত্ব থাকে। কিন্তু হঠাৎ দেখলাম রাস্তা তৈরির সময়ে আমার সেই ৫ ফুট জমি দখল করে নিয়ে রাস্তা তৈরি হচ্ছে। অথচ উল্টো দিকের বাড়ির সামনে পিডব্লুডির জায়গা থাকা সত্ত্বেও সেই দিকে রাস্তা সম্প্রসারণ হচ্ছে না। আমি তাই নিজের জমি বাঁচাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। যদিও ইচ্ছাকৃত তিনি জমি দখল করছেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সুব্রত ঘোষ। পাল্টা গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের উপর দায় চাপিয়ে তিনি বলেন, আমাকে দপ্তরের তরফে রাস্তার জমি যা দেখানো হয়েছে আমি সেখান দিয়েই রাস্তা তৈরি করছি। কারও ব্যক্তিগত জমি দখলের অভিপ্রায় আমার নেই। আদালত যদি কোনও নির্দেশ দেয় তাহলে অবশ্যই আমি তা মেনে নেব। অনেকেই আপত্তি জানানোয় তাঁদের জমি থেকে দূরত্ব রেখে রাস্তা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে, কারণ দর্শানোর নোটিস প্রসঙ্গে নদীয়ার জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ বলেন, আমি নোটিস এখনও হাতে পাইনি। তবে কী বিষয় তা আমি নির্দেশের কপি হাতে পাওয়ার পর অবশ্যই খতিয়ে দেখব। কাগজ না দেখে মন্তব্য করাটা ঠিক হবে না।।