সংবাদদাতা, মানকর: পানাগড়ের রণডিহা মোড় রেলগেট থেকে পুরনো জিটি রোড যাওয়ার রাস্তা এতটাই খারাপ যে চলাচল করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ, ওই রাস্তায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। রাস্তা বেহাল দেখেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অবিলম্বে মেরামত না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন বিরোধীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, চাকতেঁতুল, শালডাঙা, অনুরাগপুর সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দা নিয়মিত এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। সংস্কারের অভাবে সেটি খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। তার উপর বালিবোঝাই গাড়ি চলাচল করায় রাস্তার হাল আরও খারাপ হয়েছে। তারপরেও বালি কারবারিরা এই রাস্তাটিই ব্যবহার করে। স্থানীয় বাসিন্দা জগদীশ শর্মা বলেন, পানাগড়ে দু’টি রেলগেট রয়েছে। তারমধ্যে পশ্চিম প্রান্তের রেলগেটটি প্রধান। কোনও কারণে ওই গেটটি বন্ধ থাকলে এই রাস্তার উপর চাপ বাড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে পড়ুয়াদের স্কুলে যেতে সমস্যা হচ্ছে। প্রায়ই ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটে। অবিলম্বে রাস্তা সংস্কার না হলে একদিন বড় বিপদ ঘটে যাবে। তাছাড়া, রাস্তার ধুলোর জেরে ব্যবসায়ীদের ও দু’ধারে থাকা বাসিন্দাদের সমস্যা হয়। ঘরের জানলা খোলা যায় না।
সম্প্রতি এই রেলগেট যাওয়ার রাস্তায় ১২ফুট উচ্চতার একটি লোহার হাইটবার লাগানোর উদ্যোগ নেয় রেল কর্তৃপক্ষ। রেলকর্মীরা তা লাগাতে গেলে স্থানীয়দের একাংশ বাধা দেওয়ায় শুরু হয় বচসা। রেলপুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেষ পর্যন্ত হাইটবারটি আর লাগানো যায়নি, যা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছে এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। কাদের অঙ্গুলি হেলনে হাইটবারটি লাগানো গেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।
এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, টানা বৃষ্টির জেরে রাস্তার গর্তগুলি জলে ভর্তি। বড় গাড়ি এলে সাইকেল বা বাইক আরোহীদের পাশ কাটানোর জায়গা নেই। এক পথচারী বলেন, গাড়ি গেলে রাস্তার জমা নোংরা জল গায়ে ছিটকে লাগছে। কংগ্রেস নেতা পূরব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই রাস্তাটির উপর কখনও নজর দেওয়া হয়নি। প্রচুর বালির গাড়ি চলাচল করায় রাস্তার হাল আরও খারাপ হয়েছে। গত বছরের আগস্ট মাসে বিডিওকে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছিল। তারও আগে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিতভাবে রাস্তা মেরামতির জন্য আবেদন করা হয়। তাতেও কাজ হয়নি। বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, সহকারী বিডিও এসে আশ্বাস দিয়ে গিয়েছিলেন, রাস্তার হাল ফিরবে। তাঁর কথা দেওয়ার পর প্রায় এক বছর পেরিয়ে গিয়েছে।
আজও রাস্তার একই অবস্থা। বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে রাস্তার বেহাল দশার কথা জানিয়েছি। কিন্তু, সুরাহা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, শাসক দলের নেতারা নিজেদের উন্নয়নেই ব্যস্ত। এলাকার মানুষ যে সাধারণ পরিষেবাটুকুও পাচ্ছে না, সেদিকে নজর নেই। কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য বলেন, আমরাও চাই ওখানে রাস্তা হোক। পথশ্রী প্রকল্পে ব্লকজুড়ে রাস্তা হচ্ছে। কিন্তু, ওই রাস্তাটিতে দখলদারি ও রেলের নো-অবজেকশন সার্টিফিকেটের সমস্যা রয়েছে।-নিজস্ব চিত্র