নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রাজ্য সরকারের উদ্যোগে দীঘা ওয়েলকাম গেট থেকে উদয়পুর বর্ডার পর্যন্ত দীঘা ফোরশোর রোড আরও চওড়া হচ্ছে। এই মুহূর্তে ওই রাস্তা কোথাও সাড়ে পাঁচ মিটার, আবার কোথাও সাত মিটার চওড়া আছে। সেই রাস্তা বাড়িয়ে ১১মিটার চওড়া করা হবে। এজন্য মোট ২২কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। পূর্তদপ্তরের(রোড) তমলুক ডিভিশন থেকে ওই কাজের তদারকি করা হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। আগামী বছর জুলাই মাসের মধ্যে ওই কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে পূর্তদপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অরুণকুমার পাল জানিয়েছেন। এরফলে দীঘায় যানজটের ভোগান্তি থেকে অনেকটাই রেহাই মিলবে।
নন্দকুমার হাইরোড থেকে অলঙ্কারপুর পর্যন্ত ১১৬বি জাতীয় সড়ক। তারপর শুরু হয়েছে দীঘা ফোরশোর রোড। রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তর ওই ফোরশোর রোড দেখভাল করে। দীঘা জগন্নাথ মন্দির সংলগ্ন মোট ১.৭৫কিলোমিটার অংশ সম্প্রসারণ হয়েছিল। তবে, তার দু’দিকের রাস্তা সম্প্রসারণ করা হয়নি। সম্প্রতি ওই রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য ওল্ড দীঘা এবং নিউ দীঘায় পূর্তদপ্তরের জায়গা খালি করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এনিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। নানা বাধা পেরিয়ে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান সফল করে। দীঘা ওয়েলকাম গেট থেকে ওই রাস্তা মাত্র সাড়ে পাঁচ মিটার চওড়া। এরফলে প্রায়ই যানজট হয়। এই দুর্ভোগ কাটাতে রাজ্য সরকার ওই রাস্তাকে চওড়া করার পরিকল্পনা নেয়। সেইমতো ২২কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। এক সপ্তাহ আগে সেই কাজের ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করেছে পূর্ত দপ্তর।
জানা গিয়েছে, উদয়পুর সীমানা পর্যন্ত ওই রাস্তা সম্প্রসারণ হবে। যে অংশে রাস্তা সাড়ে পাঁচ মিটার চওড়া সেখানে বেড়ে ১০মিটার হবে। আর যে জায়গায় রাস্তা সাত মিটার চওড়া আছে সেখানে ১১মিটার চওড়া হবে। এছাড়াও দু’দিকে দু’ফুট করে মোট চার ফুট সার্ভিস রোড হবে। এরফলে দীঘায় পরিবহণ ব্যবস্থা আরও মসৃণ ও মজবুত হবে। যানজটের ভোগান্তি থেকে রেহাই মিলবে।
জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই দীঘায় যানবাহনের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গে বিভিন্ন ডিপো থেকে সরকারি বাসের সংখ্যা বেড়েছে। সেইসঙ্গে প্রাইভেট গাড়িও বেড়েছে। তারজন্য মাঝেমধ্যে দীঘা ওয়েলকাম গেট পেরনোর পর যানজট লক্ষ্য করা যায়। রাস্তা চওড়া হলে এই সমস্যা দূর হবে। পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই রাজ্য সরকার দীঘা ওয়েলকাম গেট থেকে উদয়পুর বর্ডার পর্যন্ত দীঘা ফোরশোর রোডকে চওড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পূর্ত দপ্তরের(রোড) এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ২২কোটি টাকা খরচে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা চওড়া হবে। এক বছরের মধ্যেই ওই কাজ শেষ করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে।