বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: মহেশতলা পুরসভার ১২ এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কসেতুর রাস্তা পুরো ভেঙে চৌচির। বজবজ ট্রাঙ্ক রোড থেকে সরকার পোল হয়ে মণিখালের উপর দিয়ে বীরেন রায় রোড ওয়েস্ট-এর সঙ্গে সংযোগ করছে এই সড়ক সেতুটি। দশ চাকার ভারী পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়াও চারচাকা, অটো, ই রিকশ, ম্যাজিক, ভ্যান চলাচল করে। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দশ থেকে বারোটি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন এই সড়কসেতু দিয়ে স্কুলে যায়। নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, সেতুতে বড় বড় গর্ত হয়ে গিয়েছে। অধিকাংশ জায়গাতে পিচ উঠে গিয়ে সেতুর নীচের অংশ উঁকি দিচ্ছে। সেই গর্তে গাড়ির চাকা পড়ে রোজই দুর্ঘটনা ঘটছে।
কংগ্রেসের দক্ষিণ ২৪ পরগনা (১) সাংগঠনিক জেলার যুব শাখার সাধারণ সম্পাদক গোপাল মণ্ডলের অভিযোগ, কেএমডিএ এই সড়কসেতু ৩০ বছর আগে তৈরি করেছিল। এরপর এই সেতু ও রাস্তার কোনও সংস্কার হয়নি। বিশেষ করে রাস্তার ভগ্নদশা অবস্থা অনেকদিন ধরেই চলছে। বিষয়টি নিয়ে কেএমডিএ থেকে মহেশতলা পুরসভা, কারও কোনো হেলদোল নেই। গত ২৭ আগস্ট পুরসভার চেয়ারম্যান দুলাল দাসের কাছে এ নিয়ে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। তিনি বলেছিলেন, কেএমডিএকে চিঠি লিখে বিষয়টি জানাবেন, যাতে দ্রুত মেরামতের কাজ করে দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে মহেশতলার বিধায়ক শুভাশিস দাসের সঙ্গে দেখা করে এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়। গোপালবাবুর কথায়, ১২ নম্বর ওয়ার্ড সহ পুরসভার বিভিন্ন জায়গাতে স্টোনচিপস ও পিচ ঢেলে রাস্তা মেরামত চলছে। তা দিয়ে সড়কসেতুর রাস্তা মেরামত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বিধায়ককে। কিন্তু এখনও কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। এখানকার নাগরিকদের আশঙ্কা, রাস্তার এই বেহাল দশার মেরামত না হলে যে কোনো দিন বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আগামী পাঁচদিনের ভিতর এর সুরাহা না হলে রাস্তা অবরোধে যেতে বাধ্য হবে যুব কংগ্রেস।
দুলাল দাস বলেন, কেএমডিএকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিধায়ক শুভাশিস দাস বলেন, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তার কাজ হচ্ছে। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলারকে বলা হয়েছে যে, সড়কসেতুর উপর যে সব জায়গাতে পিচ উঠে গিয়েছে, সেখানে নতুন করে পিচ ঢেলে মেরামত করে দিতে।