Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাত্র ৩০০ টাকার জন্য পিটিয়ে খুন বাগনানে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে পথ অবরোধ

বাগনানে তার গ্যারাজে বাইক সারনোর পর ৩০০ টাকা বাকি রেখেছিল এক যুবক। সেই টাকা পরিশোধ করেননি তিনি।

মাত্র ৩০০ টাকার জন্য পিটিয়ে খুন বাগনানে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে পথ অবরোধ
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: বাগনানে তার গ্যারাজে বাইক সারনোর পর ৩০০ টাকা বাকি রেখেছিল এক যুবক। সেই টাকা পরিশোধ করেননি তিনি। এর মধ্যে বাইকটি ফের খারাপ হলে তিনি অন্য একটি গ্যারাজে নিয়ে যান মেরামত করতে। তা দেখে ফেলে আগের গ্যারাজের মালিক মতাব্বের মল্লিক। দেখামাত্র ছুটে গিয়ে আবদুর রহমানকে বেধড়ক মারধর করে ওই গ্যারাজ মালিক। তার প্রাপ্য না মিটিয়ে ওই যুবক কেন অন্য গ্যারাজে এসেছেন, এই প্রশ্ন তুলেই সে ও তার তিন সঙ্গী চড়াও হয়েছিল আবদুরের উপর। অভিযোগ, অতিরিক্ত মারধরের ফলেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। মৃতের নাম শেখ আবদুর রহমান। তিনি থাকতেন বাইনান দক্ষিণের হওয়ালে।

Advertisement

এই ঘটনায় যুবকের পরিবার চারজন অভিযুক্তের নামে বাগনান থানায় লিখিতভাবে পিটিয়ে মারার অভিযোগ দায়ের করেছে। যদিও অভিযোগ দায়ের করার পর বেশ কয়েক ঘণ্টা কেটেও গেলেও এখনও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে রবিবার সকালে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা বাগনান-নারিট রোডের উপর বাইনান ষষ্ঠীতলায় টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করেন। মাত্র ৩০০ টাকার জন্য একজন নিরীহ যুবককে কেন পিটিয়ে মারা হল, এই প্রশ্ন তুলেছেন গ্রামবাসীরা। অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।
এদিকে অবরোধের খবর পাওয়ার পর বাগনান থানার পুলিশের বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। নামানো হয় র‍্যাফ। বেশ কিছুক্ষণ অবরোধ চলার পর পুলিশ অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন। অন্যদিকে, আবদুরের মৃত্যুর পর মতাব্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছিল গ্রামবাসীরা। শনিবার রাতে উত্তেজিত জনতা তার বাইক সারানোর গ্যারাজে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেয়। রবিবার সকালে গিয়ে দেখা গেল, গোটা এলাকা থমথমে। পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। সকলের একটাই দাবি, অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি হোক।
প্রসঙ্গত, আবদুর রহমান মাস পাঁচেক আগে মতাব্বের দোকানে বাইক মেরামত করেছিলেন। কিন্তু ৩০০ টাকা বাকি রেখেই ফিরে এসেছিলেন তিনি। এর মাঝে তিনি নেপালে চলে যান কাজে। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ফেরার পর পাড়ার অন্য একটি গ্যারাজে বাইকটি সারাতে দেন। মতাব্বের বিষয়টি কোনওভাবে জানতে পারে। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আবদুর দোকান থেকে বাইক আনতে গেলে মতাব্বের ও তার সঙ্গীরা তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে। এমনকি, বাইকের লোহার সকেট দিয়েও তাঁর মাথায় মারা হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় আবদুকে প্রথমে বাগনান গ্রামীণ হাসপাতালে, পরে উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। শুক্রবার রাতে সেখানেই মৃত্যু হয় আবদুরের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ