নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: কালভার্ট না করে রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হওয়ায় ফের বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন আরামবাগের কাপশিট এলাকার বাসিন্দা ও চাষিরা। পূর্তদপ্তরের কাজ বন্ধ করে সোমবার আরামবাগ থেকে খানাকুলের বন্দর পর্যন্ত রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরে বিডিও গিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে সমাধানের আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে। চাষিদের দাবি, মাঠের জলনিকাশির জন্য বক্স কালভার্ট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। তার আগে অসমাপ্ত রাস্তার কাজ করতে আসায় বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু আশ্বাস না মেলায় অবরোধ করা হয়। অবরোধের জেরে এদিন যান চলাচল ব্যাহত হয়।
রাস্তায় আটকে ভোগান্তির শিকার হন অনেকেই। আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিশির সরকার বলেন, এদিন অবরোধের কথা শুনে এলাকায় গিয়েছিলাম। কালভার্ট তৈরির বিষয়টি প্রশাসন দেখছে।
স্থানীয় বাসিন্দা গৌতম মালিক বলেন, মাঠের জল নিকাশির ব্যবস্থা দীর্ঘদিনের প্রাচীন। সেটি দিয়ে সঠিকভাবে জল বেরতে পারে না। তার ফলে মাঠে জমির ফসল যেমন নষ্ট হয় একইসঙ্গে এলাকাও জলমগ্নও হয়ে পড়ে। তাই বক্স কালভার্টের দাবি আগেই জানিয়ে অবরোধ করা হয়। কিন্তু তারপরও কালভার্ট নির্মাণের কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি প্রশাসনের। উল্টে কালভার্টের অংশের রাস্তা নির্মাণের কাজ করতে শুরু করে পূর্তদপ্তর। তার প্রতিবাদেই এদিন ফের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগের গৌরহাটি-২ পঞ্চায়েতের কাপশিট এলাকায় ওই জলনিকাশি ব্যবস্থার দাবি রয়েছে। আরামবাগ থেকে বন্দর ২৪ নম্বর রুটে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করছে পূর্তদপ্তর। সেখানে একাধিক জায়গায় জলনিকাশির জন্য বক্স কালভার্টের দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। চলতি মাসের প্রথম দিকে কাপশিট এলাকায় বক্স কালভার্টের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করেন বাসিন্দারা। তারপরই প্রশাসনের আধিকারিকরা এলাকা পরিদর্শন করেন। এমনকী, সমস্যা সমাধানে আশ্বাস দেওয়া হয়। তারপর সেখানে কাজ স্থগিত হয়ে যায়। এদিন ফের পূর্তদপ্তর রাস্তায় কাজ করতে গেলে বাসিন্দারা তাতে বাধা দেন।
বাসিন্দারা বলেন, এর আগে অবরোধের জেরে বাসিন্দাদের সঙ্গে পূর্তদপ্তর বা প্রশাসন কোনও আলোচনা করেনি। এদিন অবরোধের জেরে ফের আরামবাগের বিডিও এলাকায় আসেন। তিনি আগামী কাল, বুধবার বাসিন্দাদের নিয়ে পূর্তদপ্তর ও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা ওই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছি।