সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনের উপাসনা গৃহ সংলগ্ন ও রাজ্য সরকারের রাস্তার বেহাল দশা। বর্ষা শুরু হতেই বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ছে তালধ্বজ সংলগ্ন সুবর্ণরেখা মোড়। ওই এলাকায় নেই নিকাশি ব্যবস্থা। আর সেকারণেই বৃষ্টি হলে জল জমে থাকছে। সাইকেল কিংবা বাইকে কোনওরকমে যাতায়াত করা গেলেও হেঁটে যাওয়া মুশকিল। বেহাল দশার কারণে কোর হেরিটেজ এরিয়া সংলগ্ন রাস্তাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাথাব্যথার অন্যতম বড় কারণ। শুধু বিশ্বভারতীর ছাত্র-ছাত্রী, কর্মী ও আধিকারিকদের নয়, স্থানীয় বাসিন্দারাও সমস্যায় পড়ছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ।
উল্লেখ্য, উপাসনা গৃহ, ছাতিমতলা ও রবীন্দ্র ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি রাজ্য সরকারের। সুবর্ণরেখার মোড় থেকে কালীসায়র পর্যন্ত ওই রাস্তাটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার। উপাসনা চলাকালীন যান চলাচলের ফলে অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি রাজ্য সরকারকে জানানোয় তৎপর হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৭সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে ওই রাস্তা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আমলে ওই রাস্তা ঘিরে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠে। আশ্রমিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২০সালে রাজ্য ফের রাস্তাটি ফিরিয়ে নেয়। পূর্তদপ্তরের অধীনে রয়েছে রাস্তাটি। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি ভগ্নপ্রায় হয়ে উঠেছে। উপাসনা গৃহ সংলগ্ন এলাকা নিচু হওয়ায় বৃষ্টির জল গিয়ে জমা হচ্ছে। নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় জল জমে থাকছে। স্থানীয় বাসিন্দা সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুপম মজুমদার বলেন, আমরা বহু বছর ধরে এখানে থাকি। বর্ষা এলেই একই ছবি। কবে এর সুরাহা হবে জানা নেই।
বিশ্বভারতীর সঙ্গীত ভবনে ছাত্রী অনন্যা চক্রবর্তী ও মধুরিমা দত্ত বলেন, এখন শান্তিনিকেতন ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। বিদেশি পর্যটকরাও আসেন। প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত। কলকাতা থেকে ঘুরতে আসা এক দম্পতি বলেন, শান্তিনিকেতন এখন ইউনেস্কো স্বীকৃত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। কিন্তু রাস্তাঘাটে জল আর কাদা দেখে হতাশ হয়েছি।