সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: আত্মীয়ের বাড়ির অনুষ্ঠানে আর যাওয়া হল না ছোট্ট রিহানের। আনন্দ এক লহমায় বদলে গেল বিষাদে। মঙ্গলবার দুপুরে সামশেরগঞ্জের ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের আঁকুড়া মোড়ে একটি দ্রুতগামী চার চাকা গাড়ির ধাক্কায় এক বালকের মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ইমতিয়াজ আহমেদ ওরফে রিহান (৭)। ইমতিয়াজের বাড়ি সামশেরগঞ্জ থানার মালঞ্চায়। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুরে মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। রাস্তা পেরনোর সময় একটি চারচাকা গাড়ি তাঁদের ধাক্কা মারে। ঘটনায় গুরুতর জখম মৃত শিশুর মা ও ভাই। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁদের বহরমপুরের মুর্শিদাবাদ মেডিকেলে পাঠানো হয়। ঘাতক গাড়িটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। চালকের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুরে মহকুমা হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। জখমদের উদ্ধার করে চিকিৎসার বন্দোবস্ত হয়েছে। জানা গিয়েছে, এদিন দুপুর একটা নাগাদ আঁকুড়া মোড়ে দুই সন্তান নিয়ে জাতীয় সড়ক পেরোচ্ছিলেন ওই বধূ। সামশেরগঞ্জের দিক থেকে ফরাক্কামুখী একটি চার চাকা ওই বধূকে ধাক্কা মারে। গাড়ির ধাক্কায় বধূ ও দুই সন্তান সবাই জাতীয় সড়কে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই ইমতিয়াজের মৃত্যু হয়। মৃত বালকের মায়ের পা ভেঙে গিয়েছে। বছর ছ’য়ের অপর শিশুর কপাল ফেটে গিয়েছে। মাথায় আঘাত লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। মৃত বালকের দাদু আবু হোসেন বলেন, বউমা দুই নাতিকে নিয়ে ফরাক্কার মহাদেবনগরে আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি এক নাতি মারা গিয়েছে। বাকিদের মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, একটি অ্যাম্বুল্যান্স ওদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার পরেই ঘাতক গাড়িটি গতি বাড়িয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালাতে সক্ষম হয়। পুলিশ ঘাতক গাড়ির সন্ধানে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।