নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রানাঘাটে জোড়া খুন কাণ্ডে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হল। বুধবার মামলাটির শুনানি ছিল বিচারক সৌমেন গুপ্তের এজলাসে। মামলা চলাকালীন, অভিযুক্তের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। যদিও সরকারি আইনজীবী সবেমাত্র দায়িত্ব পাওয়ায় জামিনের বিরোধিতা করেন। তাঁর দাবি, এখনও গোটা মামলা সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল নন। শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য হয়েছে আগামী বছর ২৭ জানুয়ারি। প্রসঙ্গত, চলতি বছর ২৫ জুলাই, রানাঘাট থানা এলাকার আনুলিয়ায় জোড়া খুনের ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় একটি নার্সারি সংলগ্ন নির্মীয়মাণ বাড়িতে উদ্ধার হয় সুমন চক্রবর্তী(৪০) এবং তাঁর গাড়ির চালক রুপম দাসের(৩৮) রক্তাক্ত দেহ। ওইদিন ঘটনাস্থল থেকে নার্সারির মালিক দীপক স্বর্ণকারকে আটক করে রানাঘাট থানার পুলিস। ধৃত দীপক সুমনের পূর্ব পরিচিত। নিহত সুমন সুদের কারবারই ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ‘মোটিভ’ থেকেই এই খুন বলে তদন্তে মনে করে পুলিস। পরে নিহত ব্যবসায়ীর স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ধৃতকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তার বিরুদ্ধে, খুন ও তথ্য প্রমাণ লোপাটের মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তারা। পরবর্তীকালে ওই একই বিষয়গুলির সম্মিলিত চার্জশিট দাখিল করা হয় আদালতে। এর পরবর্তীতে মামলাটি রানাঘাটের অতিরিক্ত বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে অতিরিক্ত দায়রা আদালতে স্থানান্তরিত হয়। এরপর বুধবার থেকে মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আর সেই দিনেই সরকার পক্ষের বিশেষ আইনজীবী দায়িত্ব পান এই মামলার। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী সুমন রায় বলেন, আমার মক্কেল নিরপরাধ। এই খুনের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই। পুলিস তাঁকে মামলায় জড়িয়েছে। আমরা আদালতের লড়াইয়ে আমাদের দাবির সত্যতা প্রমাণ করেই ছাড়ব।



