সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটে নীলবাতি লাগানো গাড়ি সহ তিন যুবকের গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন তথ্য পেল পুলিস। যে গাড়িটিতে নীলবাতি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বোর্ড লাগানো ছিল, তার নম্বরপ্লেটও ভুয়ো! এদিন ধৃত তিনজনকে ফের রামপুরহাট আদালতে তোলা হলে বিচারক ফের তিনদিনের পুলিসি হেফাজত মঞ্জুর করেন। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও মোটা টাকার লেনদেন হয়েছে। তাদের জেরা করে গাড়ির প্রকৃত মালিককে খোঁজার চেষ্টা করা হবে। গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বোর্ড ও নীলবাতি লাগিয়ে ঝাড়খণ্ডে যাওয়ার পথে রামপুরহাট থানার পুলিসের হাতে তিন যুবক গ্রেপ্তার হয়। ধৃতরা হল কলকাতার নেতাজিনগরের পল্লিশ্রীর বাসিন্দা দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, হাওড়ার বাসিন্দা অশোক আগরওয়াল ও কলকাতার টালিগঞ্জের এনএসসি বোস রোডের বাসিন্দা অনিকেত দে। তাদের কাছ থেকে একাধিক আইডি ও ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার হয়। তাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নানা বিভাগের নাম লেখা ছিল। কিন্তু তারা যথাযথ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পুলিস তদন্ত করে দেখেছে, ওই সমস্ত আইডি ও কার্ড ভুয়ো। পুলিসের জানিয়েছে, আটক গাড়ির নম্বরপ্লেটে যে নম্বর লেখা রয়েছে, তার সঙ্গে গাডির বডি নম্বরের মিল নেই। অর্থাৎ এই গাড়ির নম্বরপ্লেট ভুয়ো। গাড়িটি আদৌ চোরাই কিনা, ধৃতরা এই গাড়ি কী কাজে ব্যবহার করছিল-তা জানতে এদিন তাদের ফের হেফাজতে নেয় পুলিস।
Advertisement
এদিন ধৃতদের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, থানায় অভিযুক্তদের উপর মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। এক অভিযুক্তর স্পাইনাল কর্ডে সমস্যা রয়েছে। বিচারক অভিযুক্তদের আইনজীবীদের ২৪ ঘণ্টায় একবার তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি পুলিসকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। পুলিসের দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ভুয়ো আধিকারিক সেজে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা ও জালিয়াতির উদ্দেশ্যে তারা বিলাসবহুল গাড়িতে নীলবাতি লাগিয়েছিল। সেইসঙ্গে নীলবাতি লাগানো গাড়ি নিয়ে ঘুরে তারা নানা সুবিধা ভোগ করেছে। ধৃত অনিকেতের নামে দিল্লি ও বেঙ্গালুরুতে অভিযোগ রয়েছে। তাদের অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের হদিস মিলেছে। কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে তাদের টাকা দিয়েছে, সেটা পুলিস খতিয়ে দেখছে। পুলিস ধৃতদের মোবাইলের কল লিস্ট ও হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট খতিয়ে দেখা শুরু করেছে।



