Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজ্যের টাকায় অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে

রাজ্যের টাকায় অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: চব্বিশ বছর প্রায় পেরিয়ে গেল। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পুরনো ভবন গুঁড়িয়ে দিলেও রানাঘাট শহরের বুকে আর পূর্ণাঙ্গ রবীন্দ্রভবন হল না। অথচ এই শহরের রবীন্দ্রভবন ছিল দেশের প্রথম। একসময় কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় করে নতুন ভবন তৈরির কথা হয়েছিল। রাজ্য তার বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু ফের সেই কেন্দ্রের অসহযোগিতা! তারা টাকা দিল না। অগত্যা অর্ধনির্মিত অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে শহরের সংস্কৃতি চর্চার আশা ভরসার জায়গাটি। 
Advertisement
স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষদের দাবি, রানাঘাট শহরের বুকে এক সময় গড়ে ওঠা রবীন্দ্রভবন নাকি এশিয়ার প্রথম। তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক থাকলেও দেশের অন্যতম প্রাচীন রবীন্দ্রভবন যে এটাই তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। ২০০০ সালের বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই ভবনটি। পরবর্তীকালে সেই জীর্ণ ভবনটি পুরোপুরি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। উদ্যোগ নেওয়া হয় নতুন করে তৈরির। কারণ রানাঘাটের রবীন্দ্রভবন যেমন বহু ইতিহাস এবং আন্দোলনের সাক্ষী, তেমনই এলাকার সংস্কৃতির পীঠস্থান ছিল। পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবর্ষে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে এই শহরে রবীন্দ্রভবন গড়ার জন্য ‘রবীন্দ্র কালচারাল স্কিম ২০১২’ প্রকল্প হাতে নেয়। সব মিলিয়ে খরচ ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা। সেই মতো রাজ্য সরকার ২ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে। সেই টাকা খরচ করে পুরনো জায়গাতেই বেশ কিছুটা নির্মাণকার্য এগয়। স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীরা স্মৃতিচারণ করে বলেন, এর মাঝে কেন্দ্রীয় ক্ষমতার হাত বদল হয়। ইউপিএ ২ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে কেন্দ্রের মসনদ দখল করে বিজেপি। আর তাতেই রবীন্দ্র ভবনের জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বাতিল হয়। কারণ স্কিম তুলে নেয় নতুন সরকার। ফলে রাজ্যের বরাদ্দ অর্থে অর্ধনির্মিত অবস্থাতেই বছরের পর বছর ধরে পড়ে রয়েছে রবীন্দ্র ভবনটি।।
রবিবার, রানাঘাটের চৌরঙ্গি মোড়ে সিটিজেনস ফোরামের তরফে রবীন্দ্রভবনের দাবি আদায় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক রবীন্দ্রভবন এবং শহরের সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁরা প্রশাসনের কাছে দাবি করেন। ফোরামের তরফে সম্পাদক পরেশনাথ কর্মকার বলেন, রানাঘাটের রবীন্দ্রভবন অনেক প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটিকে ভেঙে ফেলা হল বটে। কিন্তু আর গড়ে তোলা হল না। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমাদের প্রাণের সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রটি ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি। ভবিষ্যতে আমরা আমাদের দাবি আদায় আরও বিভিন্ন পরিকল্পনার মধ্যে দিয়ে যাব। 
বিষয়টি নিয়ে বর্তমান রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমের বিধায়ক তথা নদীয়া দক্ষিণের বিজেপি সভাপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে ধরা যায়নি। উত্তর দেননি তাঁকে পাঠানো ভয়েস মেলের।
এদিকে, তৃণমূলের তরফে রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার নিজেদের অংশের টাকা বরাদ্দ করেছিল। তাতে অনেকটা কাজও এগিয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র তার বরাদ্দ দেয়নি। আমরা চাই রবীন্দ্রভবন গড়ে উঠুক। বিকল্প পথ ভাবতে হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ