সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: নদী ভাঙন, প্লাবন থেকে কৃষিজমি ও ফসল বাঁচাতে উদ্যোগী হয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদ। সেই লক্ষ্যে চলতি মাসের গোড়ায় জেলার বিভিন্ন ব্লকে বেশকিছু নদীতে বাঁধ দেওয়ার জন্য সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল পরিষদের কৃষি, সেচ ও সমবায় স্থায়ী সমিতি। পরিষদের সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখতে রাজ্য থেকে জেলায় টিম পাঠাতে পারে সেচদপ্তর। সূত্রের খবর, রাজ্যের নির্দেশে জেলা সেচদপ্তরের টিমও পরিষদের ওই প্রস্তাব খতিয়ে দেখতে পারে।
৪ জুন জেলা পরিষদের কৃষি, সেচ ও সমবায় স্থায়ী সমিতি থেকে ওই প্রস্তাব পাঠানো হয় সেচমন্ত্রীর কাছে। প্রস্তাবের প্রাপ্তি স্বীকার করে সেচদপ্তর খতিয়ে দেখার জন্য চিম পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে পরিষদের সংশ্লিষ্ট স্থায়ী সমিতির কাছে। সেচদপ্তরের চিঠিতে আশার আলো দেখছে সংশ্লিষ্ট স্থায়ী সমিতি।
আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের কৃষি, সেচ ও সমবায় স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ অনুপ দাস বলেন, নদী ভাঙনে কৃষি জমি ও ফসল বাঁচাতে জেলার ছ’টি ব্লকে বেশকিছু নদীতে বাঁধ দেওয়া দরকার। সেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল সেচমন্ত্রীর কাছে। তিনি খতিয়ে দেখতে জেলায় টিম পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।
নদী ভাঙনে কৃষিজমি ও ফসল বাঁচাতে পরিষদের কৃষি, সেচ ও সমবায় স্থায়ী সমিতির পক্ষ থেকে গদাধর, নোনাই, রায়ডাক, হলং, কালকূট ও চেকো সহ বিভিন্ন নদীতে বাঁধ দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়। আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের সলসলাবাড়িতে গদাধর এবং দক্ষিণ পারোকাটা ও পূর্ব চিকলিগুড়িতে রায়ডাক নদীতে বাঁধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফালাকাটার চুয়াখোলা ও ময়রারডাঙায় হলং নদীতেও বাঁধের প্রস্তাব রয়েছে।
একইভাবে আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের উত্তর পানিয়ালগুড়িতে চেকো নদী ও বড় চৌকিরবস এলাকায় গদাধর নদীতেও বাঁধের প্রস্তাব পাঠিয়েছে পরিষদের ওই স্থায়ী সমিতি। জেলা সদর লাগোয়া দ্বীপচর মহাকাল ধাম থেকে কালজানি নদীর স্লুইস গেট পর্যন্ত ক্যানেলেও বাঁধের প্রস্তাব পাঠিয়েছে পরিষদ।
শহরের পাশে পঞ্চয়েত এলাকায় ওই ক্যানেলটি সংস্কার করে বাঁধ দিলে শহরের ১০টি ওয়ার্ড বর্ষায় জলমগ্ন হওয়া থেকে রক্ষা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিষদের কৃষি, সেচ ও সমবায় স্থায়ী সমিতির প্রস্তাবিত এই বাঁধগুলি কোথাও ৫০০ মিটার ও কোথাও এক কিমি পর্যন্ত রয়েছে। ফাইল চিত্র।