সংবাদদাতা, মানকর: খড়ি নদী উপরে বাঁশের সাঁকো পেরিয়েই নিত্য যাতায়াত করতে হয় গলসির বাহিরঘন্ন্যা, আউশগ্রামের তকিপুর, বনপাশ সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের। কিন্তু সেতুর অবস্থা ধীরে ধীরে বেহাল হচ্ছে। বেশ কয়েক জায়গায় গর্ত তৈরি হয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করছেন দুই পাড়ের বাসিন্দারা। অভিযোগ, রাজ্যপাট বদলালেও স্থানীয়দের ভোগান্তির শেষ হয় না। যদিও বিজেপি বিধায়ক কলিতা মাঝি বলেন, আগের সরকার এলাকায় উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। পাকা সেতু নির্মাণের বিষয়ে জেলা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আউশগ্রামের বিল্বগ্রাম, বেলকাশ, বনপাশ, ভোঁতা, ব্রজপুর সহ গলসির বাহিরঘন্ন্যা, কুরকুবা, জয়কৃষ্ণপুর সহ একাধিক গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এই অস্থায়ী কাঠের সেতু দিয়ে নিত্য যাতায়াত করেন। গলসি এলাকার বাসিন্দা জয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিল্বগ্রাম সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা গলসি বাজারের উপর নির্ভর করেন। ওদিক থেকে অনেক পড়ুয়া গলসি কলেজে পড়তে যায়। কিন্তু বর্ষায় সেতুতে জল উঠে যায়। পড়ুয়া সহ সকলকে অসুবিধার মুখে পড়তে হয়। এখন সেতুর বেশ কয়েক জায়গায় গর্ত তৈরি হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর তকিপুরে বিখ্যাত কালীপুজোর সময় বহু মানুষ এই কাঠের সেতু দিয়ে পারাপার করে। স্থায়ী সেতু হলে দুইপাড়ের মানুষেরই উপকার হবে। বাহিরঘন্ন্যার বাসিন্দা শেখ নবাব বলেন, কয়েকদিন আগে খড়ি নদীর জলে সেতু ডুবে গিয়েছিল। ফলে নিত্যযাত্রী থেকে পড়ুয়াদের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। স্থায়ী সেতু নিয়ে আগে বহুবার আবেদন করা হলেও কোনো লাভ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, আগে টিনের ডিঙিতে খড়ি নদী পারাপার চলত। পরে অস্থায়ী সেতু তৈরি হয়। এলাকার বহু মানুষ সেতু দিয়ে সহজে গলসি গিয়ে আসানসোল বা বর্ধমানগামী ট্রেন ধরেন। ঊনিশ নম্বর জাতীয় সড়কে যাওয়া যায়। এছাড়া মোটর ভ্যান, ছোট হাতির মতো গাড়িও যাতায়াত করার ফলে এলাকার ব্যবসায়ীদের সুবিধা হয়। সেতু বন্ধ হলে দিগনগর, সর হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার বেশি ঘুরে গলসি আসতে হয়।
সিপিএম নেতা সোনা মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা স্থায়ী সেতুর দাবি নিয়ে একাধিকবার ডেপুটেশন দিয়েছি। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জিতলে ওখানে সেতু হবে কিন্তু তার কোনো লক্ষণ এখনো পর্যন্ত দেখা যায়নি। কংগ্রেস নেতা অসীম দত্ত বলেন, আমরা এই সমস্যার কথা নিয়ে আগেই সরব হয়েছি। স্থায়ী সেতু একান্ত দরকার। কবে সমস্যার সমাধান হবে আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে এলাকার বাসিন্দারা। খড়ি নদীর ওপর অস্থায়ী সেতু। নিজস্ব চিত্র