ম্যাঞ্চেস্টার: ডান পায়ের টোকায় ফুটবলটা শূন্যে তুলে শুরু করলেন নাচানো। পরপর চারবার বাঁ-পায়ে। তারপর ডান পায়ে। ফের বাঁ-পায়ে। এমনই নিয়ন্ত্রণ যে, কে বলবে ঋষভ পন্থ ফুটবলার নন! রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের পোস্ট করা ভিডিওতে রীতিমতো ফুরফুরে মেজাজেই দেখা গেল ভারতের সহ-অধিনায়ককে। এমনকী, চোট নিয়েও আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। শুধু ফুটবল খেলাই তো নয়, ফিল্ডিংয়ের পর ব্যাট হাতেও স্বচ্ছন্দ দেখিয়েছে তাঁকে। ফলে ওল্ড ট্রাফোর্ডে বুধবার শুরু হতে চলা অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফির চতুর্থ টেস্টে পন্থের খেলা নিয়ে সংশয় অনেকটাই কমছে।
লর্ডসে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের ৩৪তম ওভারে যশপ্রীত বুমরাহর ডেলিভারি অনসাইডে ডাইভ দিয়ে ধরতে গিয়ে চোট পেয়েছিলেন পন্থ। বাঁ হাতের তর্জনীতে লেগেছিল তাঁর। সেই ওভারের পর আর কিপ করতে পারেননি। এরপর ধ্রুব জুরেলই সামলান সেই দায়িত্ব। ব্যাট করার সময়ও একেবারেই স্বচ্ছন্দ ছিলেন না পন্থ। মনে হচ্ছিল, ব্যাটে-বলে সংযোগ হওয়ার সময় আঙুলে ব্যথা হচ্ছে তাঁর। মাঝে মাঝেই ব্যাট থেকে সরিয়ে নিচ্ছিলেন হাত। ডাকতে হচ্ছিল ফিজিও’কে। কিন্তু এদিন পোস্ট করা ভিডিওতে নেটে অনায়াসে শট নিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তবে ফিল্ডিং করলেও কিপিং গ্লাভস হাতে গলাননি পন্থ। আর সে জন্যই জোরালো হচ্ছে বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে তাঁর খেলার সম্ভাবনা। সেক্ষেত্রে কিপার হিসেবে দলে আসবেন জুরেল। তাঁর ব্যাটের হাত মন্দ নয়। ফলে ব্যাটিং গভীরতার সঙ্গেও আপশোস করতে হবে না দলকে।
এই টেস্টে বীরেন্দ্র সেওয়াগের রেকর্ড ভাঙার হাতছানির সামনে পন্থ। ৪৬ টেস্টের কেরিয়ারে মোট ৮৮টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। পাঁচদিনের ফরম্যাটে রোহিত শর্মার ছক্কার সংখ্যাও ৮৮টি। দু’জনেই যুগ্মভাবে রয়েছেন ভারতীয়দের মধ্যে টেস্টে ছক্কা মারার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে থাকা বীরু ১০৩ ম্যাচে মেরেছেন ৯০টি ছক্কা। অর্থাৎ, আর তিনটি ছক্কা হলেই সেওয়াগকে পিছনে ফেলবেন পন্থ। চলতি সিরিজে ৭০.৮৩ গড়ে ৪২৫ রান হয়ে গিয়েছে তাঁর। এই মেজাজে খেললে বীরুকে টপকানো স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।