Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

দিল্লিতে দুষ্কৃতী তাণ্ডব, যুবককে নগ্ন করে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর

ঘরের ভিতর থেকে এক যুবককে টেনে নিয়ে আসছে জনাপাঁচেক ছেলে। রাস্তায় ফেলে চলছে বেধড়ক মারধর। কিছুক্ষণ পর প্রকাশ্য রাস্তায় তাঁর পরনের প্যান্টও খুলে দেয় দুষ্কৃতীরা।

দিল্লিতে দুষ্কৃতী তাণ্ডব, যুবককে নগ্ন করে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ঘরের ভিতর থেকে এক যুবককে টেনে নিয়ে আসছে জনাপাঁচেক ছেলে। রাস্তায় ফেলে চলছে বেধড়ক মারধর। কিছুক্ষণ পর প্রকাশ্য রাস্তায় তাঁর পরনের প্যান্টও খুলে দেয় দুষ্কৃতীরা। তারপর আবার শুরু হয় লাথি, চড়, জুতো পেটা। পালানোর চেষ্টা করলেও রেহাই মেলেনি। দেশের রাজধানীতে এমনই ঘটনার সাক্ষী রইলেন আম জনতা। চোখের সামনে ওই যুবককে নিগৃহিত হতে দেখলেও সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি কেউই। আশ্চর্যের বিষয়, এই কাণ্ড চলাকালীন দুই পুলিশকর্মী বাইকে করে ঘটনাস্থলে আসেন। তবে দুষ্কৃতীদের সেই তাণ্ডব দেখে আর পাঁচজনের মতো তাঁরাও রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। কিছুক্ষণ দুষ্কৃতী তাণ্ডব চলার পর ওই যুবককে এসে প্যান্ট দিয়ে যান এক পুলিশকর্মী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে গোটা ঘটনার একাধিক ভিডিও। তার পরেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

Advertisement

ঘটনাটি গত ২ জানুয়ারির। সম্প্রতি ওই হামলার ভিডিওটি সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, রাজেশ গর্গ ও তাঁর স্ত্রী মিলে বাড়ির বেসমেন্টে একটি জিম চালান। রাজেশের অভিযোগ, ওই জিমের কেয়ারটেকার সতীশ যাদব প্রতারণা করে জিমের পুরো ব্যবসা ও মালিকানা হাতাতে চান। তা নিয়ে দু’পক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে। ঘটনার দিন সতীশ দলবল নিয়ে রাজেশের বাড়িতে চড়াও হয়। প্রথমে ঘরে ঢুকে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করা হয়। তাঁদের ছেলে দুষ্কৃতীদের বাধা দিতে গেলে তারা রাজেশকে ঘর থেকে টেনে রাস্তায় ফেলে নারকীয় নির্যাতন চালায়। পুলিশ সোমবার অভিযুক্তদের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিরা পলাতক। মারধরের একটি ভিডিয়ো থেকে ওঙ্কার যাদব নামে একজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজেশের স্ত্রীর অভিযোগ, ওঙ্কারের মাথায় বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হাত রয়েছে। সোমবার আরও একটি ছবি সামনে এসেছে। তাতে অভিযুক্ত ওঙ্কারকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে দেখা গিয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণেই পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারিতে গড়িমসি করছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। আক্রান্ত রাজেশ বলেন, ‘দুষ্কৃতীরা আমাকে মারধর করে পোশাক ছিঁড়ে দেয়। মুখে লাগাতার ঘুষি মারতে থাকে। আমার ছেলে বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর করে। বেশ কিছুক্ষণ আমার ছেলে গুরুতর জখম অবস্থায় রাস্তাতেই পড়েছিল।’ রাজেশের স্ত্রীর অভিযোগ, ‘দুষ্কৃতীরা আমার চুলের মুঠি ধরে টেনে নিয়ে আসে। তারপর রাস্তায় ফেলে ঘুষি, লাথি মারে। আমার সঙ্গে যা হয়েছে, তা ধর্ষণের থেকে কম কিছু নয়।’ পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, গত ২ জানুয়ারি বিকেলে তাঁদের কাছে খবর আসে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জখম তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভরতি করে। জিমের কেয়ারটেকার সতীশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ