নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থেকে সুগন্ধী গোবিন্দভোগ চাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কেরলে। কিন্তু, রাইসমিল থেকে চাল ভর্তি লরি নিয়ে চালক পৌঁছে যায় হুগলির বলাগড়ে। মাঝপথেই লরির নম্বর প্লেট বদল করে। লরিতে ৫০০ বস্তা চাল ছিল। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। রাইসমিল থেকে লরিটি বেরনোর পরই চালকের মোবাইল ফোন সুইচড অফ হয়ে যায়। রাইসমিল মালিক বারবার ফোন করেও তাকে পাননি। অন্যদিকে কেরলের যে সংস্থা চাল নিয়ে যাচ্ছিল, তারা রাইসমিল মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকে। উপায় না দেখে রাইসমিল মালিক মাধবডিহি থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে লরির চালক কয়েকজনের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে চাল সহ লরিটি উধাও করে দিয়েছে। বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অভিষেক মণ্ডল বলেন, লরির চালক মিলন দাস ও তার সহযোগী তাপস শর্মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বাড়ি নদীয়ার চাকদহ এলাকায়। চাল সহ লরিটি উদ্ধার হয়েছে। তারা লরিটি বলাগড়ে নিয়ে গিয়ে রেখেছিল। চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, লরির নম্বর রাইসমিল মালিকের কাছে ছিল। তিনি সেই রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি পুলিশকে দেন। তদন্তকারীরা বিভিন্ন এলাকার টোলপ্লাজায় গিয়ে লরিটি কোন দিকে গিয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করে। কিন্তু, কোনও টোলপ্লাজায় ওই রেজিস্ট্রেশন নম্বরের গাড়ি দেখা যায়নি। কিন্তু, ওই সময়ের মধ্যে অন্য একটি লরির রেজিস্ট্রেশন নম্বর পায় পুলিশ। সেটা ধরেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। এরপরই চালক মিলনের খোঁজ করতে থাকে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তার বাড়ি চাকদহে। তার বিরুদ্ধে এর আগেও এধরনের লরি চুরির অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রেও চাল সহ লরি বিক্রি করে দেওয়ার তার পরিকল্পনা ছিল। পরে পুলিশের সামনে ‘হাইজ্যাকে’র চিত্রনাট্য সামনে আনত। অবশ্য তার আগেই পুলিশ তাকে পাকড়াও করে।
মাধবডিহি থানার পুলিশ জানিয়েছে, চালককে হেপাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে। ২০ ডিসেম্বর সে চাল সহ লরিটি নিয়ে উধাও হয়ে গিয়েছিল। বলাগড়ের গোপন জায়গায় লরি রেখে দিয়ে ধীরে ধীরে চাল উধায়ের পরিকল্পনা ছিল।
দক্ষিণ দামোদর থেকে বেশি গোবিন্দভোগ চাল কেরলে যায়। সেখানকার বিভিন্ন সংস্থা এখানকার রাইসমিল মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাল নিয়ে যায়। অনেকে ক্ষেত্রে রাইসমিল মালিকই লরি বা ট্রাক ঠিক করে চাল পাঠিয়ে দেয়। এক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল।