পিএম গরিব কল্যাণ যোজনায়  চালের বরাদ্দ বাড়ছে ডিসেম্বরে
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার আওতাভুক্ত রাজ্যের ৬ কোটি  রেশন গ্রাহকের চালের বরাদ্দ ডিসেম্বর থেকে বাড়ানো হচ্ছে। কেন্দ্রই জানিয়েছে রাজ্যকে। চালের বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রকে চিঠি লেখেন। পিএইচএইচ শ্রেণির গ্রাহকদের মাথাপিছু চালের বরাদ্দ ২ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৩ কেজি করার অনুরোধ ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। পাশাপাশি অন্ত্যোদয় শ্রেণির (এএওয়াই) রেশন গ্রাহকদের পরিবার পিছু চালের বরাদ্দ ২০ কেজি করার কথা বলা হয়। সেটাই করেছে কেন্দ্র। পিএইচএইচ গ্রাহকরা মাসে মাথাপিছু মোট ৫ কেজি করে খাদ্যসামগ্রী পান। সেটা এতদিন ছিল—৩ কেজি গম ও ২ কেজি চাল। তা এবার পরিবর্তিত হয়ে ৩ কেজি চাল ও ২ কেজি গম হবে। অন্যদিকে অন্ত্যোদয় শ্রেণির গ্রাহকদের মোট ৩৫ কেজি খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ২০ কেজি গম ও ১৫ কেজি চাল ছিল। সেটা পরিবর্তিত হয়ে ১৫ কেজি গম ও ২০ কেজি চাল হবে ডিসেম্বর থেকে। 

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের রেশন গ্রাহকদের জন্য গমের বরাদ্দ ১ কেজি বাড়িয়ে চাল বণ্টন সেই অনুপাতে কমানো হয়। এই পরিবর্তনের পিছনে অর্থনৈতিক কারণ ছিল। কারণ গম বাড়িয়ে চাল কম দিলে সরকারের প্রচুর সাশ্রয় হয়। এক কেজি গমের জন্য কেন্দ্রের খরচ হয় ২৯ টাকা ৮০ পয়সা। সেখানে প্রতি কেজি চালের জন্য খরচ ৪১ টাকা ৭৩ পয়সা। ফলে পশ্চিমবঙ্গের রেশন গ্রাহকদের চাল দিতে ভরতুকি খাতে কেন্দ্রের খরচ বাড়বে বছরে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। 
পশ্চিমবঙ্গে গমের চেয়ে চালের কদর বেশি। বরাদ্দ পরিবর্তন করার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধের এটি একটি কারণ ছিল। অন্যটি হল বেশি পরিমাণ চাল দিলে রাজ্যের কৃষকদের কাছ থেকে আরও বেশি পরিমাণ ধান কেনা সম্ভব হবে। রেশনে চালের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় ধান রাজ্য থেকে কেনা হয় রাজ্য সরকারের উদ্যোগে। ফলে আরও বেশি চাষি লাভজনক দামে সরকারের কাছে ধান বিক্রির সুযোগ পাবেন। এদিকে, এই পরিস্থিতিতে রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতাভুক্ত রেশন গ্রাহকরা যাতে কিছু পরিমাণ গম পান তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্যোগী হতে অনুরোধ করেছেন রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু। রাজ্য প্রকল্পের রেশন গ্রাহকরা এখন শুধু চাল পান। কারণ রাজ্যগুলিকে কম দামে গম সরবরাহ কেন্দ্র কয়েকবছর আগেই বন্ধ করেছে। এই ব্যবস্থা ফের চালু হলে গম দেওয়া যাবে।