চোরবাগান বিপর্যয়ে গ্রেপ্তার ‘ঘোষক’, ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে, আপনারা বেরিয়ে যান’ ঘোষণাতেই বিপত্তি, বলছে পুলিশ
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’—এই কয়েকটি শব্দই ঘি দিয়েছিল আগুনে। হুলুস্থুল বেঁধে গিয়েছিল চোরবাগানের মণ্ডপে। সবাই চেয়েছিল আগে বেরতে। কে বা কারা ছিল এই ঘোষণার নেপথ্যে? চিহ্নিত আগেই করেছিল লালবাজার। তাদেরই মধ্যে এক ঘোষক সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে নদীয়া থেকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হল। তিনি চোরবাগান পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষও বটে। রাতেই তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। কার নির্দেশে তিনি এই ঘোষণা করলেন, তাঁকে জেরা করে জানতে চান তদন্তকারীরা। যদিও চিহ্নিত আর এক ঘোষকের এখনও খোঁজ নেই। 

Advertisement

কী কারণে এবং কাদের গাফিলতিতে পদপিষ্ট হয়ে চোরবাগানে ১৯ জনের মৃত্যু? উত্তর খুঁজতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো যেমন সিট গঠন হয়েছে, তেমনই ডিসি শৈলজা দাসের নেতৃত্বে লালবাজারের আলাদা আর একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তাতে প্রধান সূত্র হিসাবে কাজ করছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। দেখা যাচ্ছে, এক্সিট গেটে প্রবল ঠেলাঠেলি চলছে দর্শনার্থীদের। আতঙ্কে অনেকে চিৎকার করছেন। মাটিতে পড়ে বহু মানুষ। এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মাঝেই ঘোষণা চলছে, ‘মণ্ডপ ভেঙে গিয়েছে। আপনারা তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যান।’ সেটাই ভিড়কে আরও দিশাহারা করে দেয়। কিন্তু কোথা থেকে এল এই ঘোষণা? তদন্ত করতে নেমে অফিসাররা দেখেন, চোরবাগানে মণ্ডপের বাইরে আসার রাস্তায় পুজো কমিটির কর্তাব্যক্তি ও অতিথিদের বসার জায়গা। সেখান থেকেই হয়েছিল ঘোষণা। হেপাজতে থাকা অভিযুক্তরা জানিয়েছেন, ঘোষণার দায়িত্বে ছিলেন ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সেন্টু ও তাঁর এক সহযোগী। এরপরই পুলিশ দু’জনের বাড়িতে হানা দেয়। কাউকে পাওয়া যায়নি। দু’জনেরই মোবাইল বন্ধ। তদন্তকারীরা তাঁদের আত্মীয়দের মোবাইল ট্র্যাক করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে সঞ্জীব ওরফে সেন্টু বাড়িতে ফোন করেন। তখনই পুলিশ জানতে পারে, কলটি এসেছিল নদীয়া থেকে। এরপরই পুলিশের একটি টিম কল্যাণী পৌঁছে তাঁকে আটক করে এবং কলকাতায় নিয়ে আসে। কিন্তু কার নির্দেশে তাঁর ওই ঘোষণা? জিজ্ঞাসাবাদ করে সেটাই এখন জানার চেষ্টা চলছে।
সমবেদনা জানাতে প্রত্যেক নিহতের বাড়ি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কখনো আরামবাগ, কখনও বর্ধমান। ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দিচ্ছে পরিজনদের হাতে। তিনিও কিন্তু ‘অবিবেচকে’র মতো ঘোষণা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের দড়ি সরিয়ে দেওয়াকেই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করেছেন। তবে এতবড় ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। নিয়মমাফিক ওই মণ্ডপের যৌথ পরিদর্শন করেন লালবাজারের কর্তারা। সেখানে দমকল, সিইএসসির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। লালবাজারের এক কর্তার দাবি, প্যান্ডেলে ঢোকা-বেরোনার রাস্তা অত্যন্ত সরু ছিল। একই দিকে এন্ট্রি-এক্সিট। এছাড়া বেরনোর রাস্তা ২৫ ফুটের হলেও, তার ১৫ ফুট জুড়ে খাবারের দোকান। পুজো কমিটিকে সবই বলা হয়েছিল। অভিযোগ, কথা শোনেননি উদ্যোক্তারা। প্রশ্ন উঠছে, নিয়ম না মানায় স্থানীয় থানা ওই পুজো কমিটির বিরুদ্ধে কেন জিডি করেনি? যৌথ পরিদর্শনের পর কোথায় খামতি, তা নিয়ে একটি নোটশিট তৈরি হয় বলে দাবি। সেটি আদৌ তৈরি হয়েছিল কি না, তার খোঁজখবর চলছে।