নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাকে ভুল বুঝিয়ে দু’বছরের দুটি পুত্র সন্তানকে হাতানোর পর বিক্রির অভিযোগ উঠল। এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্তান দত্তক নেওয়ার জাল নথি তৈরি করে ফেলেছিল দম্পতি। অভিযোগ, মেয়ে থাকলেও ছেলের শখ মেটাতে তাদের কিনেছিল ওই দম্পতি। ঘটনাটি একবালপুরের। তদন্তে নেমে অভিযুক্ত মহম্মদ জুলকারকে গ্রেপ্তার করেছে একবালপুর থানা। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দুবছরের দুটি শিশু। তার স্ত্রীর খোঁজ চলছে। এর পিছনে শিশু চুরি করে বিক্রির চক্র আছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই শিশু সন্তানের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। দুই সন্তানের খরচ জোটাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন মা। কয়েকদিন আগে তাঁর কাছে আসেন স্থানীয় এক মহিলা। সে জানায়, দুই শিশুর থাকার ভালো ব্যবস্থা করে দেবে সে। বড়ো না হওয়া পর্যন্ত তাদের দেখভাল করবে এক ব্যবসায়ী পরিবার। দুই পুত্র সন্তানের মাও তাদের সঙ্গে থাকতে পারবেন। যদি থাকতে না চান তাহলে প্রতিদিন দেখা করতে পারবেন। একথায় আশ্বস্ত হয়ে তিনি দুই সন্তানকে অন্যের কাছে রাখতে দিতে রাজি হন। আসলে তাঁকে ভুল বুঝিয়ে দুবছরের ওই দুই শিশুকে হাতানো হচ্ছে তা বুঝতে পারেননি। এই সুযোগে চক্রের এক মহিলা দিন ছয়েক আগে বাচ্চা দুটিকে নিয়ে চলে যায়। অভিযুক্ত ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল একবালপুর এলাকার বাসিন্দা এক দম্পতি। ওই মহিলা দুই শিশু পুত্রকে হাতিয়ে দম্পতির কাছে বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ। এরপর দত্তক নেওয়ার ভুয়ো কাগজপত্র তৈরি করে ফেলে। এদিকে শিশুদের মা দেখা করতে পারছিলেন না। উল্টে তাঁকে কুড়ি হাজার টাকা দেওয়া হয়, বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য। এরপরই তিনি একবালপুর থানার দ্বারস্থ হন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কেস রুজু করে। তদন্তে নেমে অফিসাররা জানতে পারেন, ওই দুই শিশু রয়েছে একবালপুর এলাকায় জুলকারের বাড়িতে। সে বাচ্চা দুটি কিনেছে। বুধবার রাতে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি বাচ্চাকে উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় জুলকারকে। শিশুদুটিকে হোমে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, একবালপুর এলাকায় একটি চক্র রয়েছে। যারা আর্থিক দিক থেকে দুর্বল পরিবার খুঁজে বের করছে। তাদের বিভিন্নভাবে ভুল বুঝিয়ে বাচ্চা হাতিয়ে নিঃসন্তান দম্পতি বা যারা পুত্র সন্তান চান তাদের মোটা টাকার বিক্রি করছে। চক্রের মাথার খোঁজ চলছে।



