নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত কয়েক বছর ধরে একটাই ট্রেন্ড। তৃতীয়া থেকেই যান নিয়ন্ত্রণে রাস্তায় অতিরিক্ত বাহিনী নামায় লালবাজার। সেদিন থেকেই দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের দু’পাড়ে পার্কিং নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু, এবছর অন্য চিত্র। দেদার চলল পার্কিং। তার জেরে যানজট দেখল দক্ষিণ কলকাতা। শুধু তাই নয়, উত্তর ও মধ্য কলকাতাতেও ক্রাউড সার্কুলেশনে সমস্যা স্পষ্ট। ব্যারিকেড থাকলেও তাতে নজরদারি নেই। যত্রতত্র মূল রাস্তায় নেমে পড়ে হাঁটলেন পথচারীরা। সব মিলিয়ে এ বছরের পুজোয় পুলিশি অব্যবস্থা নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন উঠল। কিন্তু, রাস্তায় ট্রাফিকবিধি ভাঙার প্রশ্নে পুলিশি সক্রিয়তা চোখে পড়েছে। পুজোর সাতদিনে বিভিন্ন ধারায় মোট ৪ হাজার ৩৫২টি কেস রুজু করেছে লালবাজার। রাস্তায় অভব্যতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৯৪ জনকে।
উত্তর কলকাতায় বিধান সরণির দু’পাশে একাধিক পুজো মণ্ডপ রয়েছে। ট্রেনে বিধাননগরে নেমে উল্টোডাঙা হয়ে শ্যামবাজার, হাতিবাগানে ঠাকুর দেখতে যান শহরতলি, জেলা থেকে আসা দর্শনার্থীরা। অন্যান্যবার উল্টোডাঙা থেকে খান্না, হাতিবাগান যাওয়ার রাস্তায় অতিরিক্ত পুলিশি ব্যবস্থা থাকে। নজর দেওয়া হয় যান নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু, এবার সেসব ভোঁ-ভাঁ। যান নিয়ন্ত্রণ তো দূর অস্ত, এই রুটে হাতেগোনা কয়েকজন ট্রাফিক বিভাগের অফিসারকে দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে, পুজোর সময় দক্ষিণ কলকাতার স্পর্শকাতর স্পট হিসাবে চিহ্নিত রাসবিহারী ক্রসিং ও গড়িয়াহাট মোড়। এই দু’টি মোড়ের আশপাশে একাধিক বড়ো পুজো হয়। তাই প্রতি বছর বাড়তি পুলিশি ব্যবস্থা রাখা হয় এই অঞ্চলে। গত বছর লালবাজার থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল, শুধুমাত্র রাসবিহারী অ্যাভিনিউ সামলানোর জন্য ৫০০ জন অতিরিক্ত পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তার মধ্যে একজন ইনসপেক্টরকে মোতায়েন করা হয়েছে শুধু নো-পার্কিং এলাকায় নজরদারির জন্য। তিনি ঘুরে ঘুরে গোটা রাস্তা পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়াও গোটা রাস্তায় অন্তত ২৫ জন সার্জেন্টকে মোতায়েন করা হয়েছিল। এবছর চেতলা থেকে দেশপ্রিয় পার্ক পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা মোটের উপর বেশ নিয়ন্ত্রিত ছিল। কিন্তু, দেশপ্রিয় পার্ক থেকে রাজডাঙা পর্যন্ত ভিন্ন পরিস্থিতি নজরে এসেছে। ত্রিকোণ পার্কের কাছে রাস্তার দু’ধারে একের পর এক গাড়ি, বাইককে পার্কিং করতে দেখা গিয়েছে। বাসন্তী দেবী কলেজের আগে পর্যন্ত এই পরিস্থিতি ছিল। আবার বিজন সেতুর পর থেকে কসবা থানার কিছুটা আগে পর্যন্ত নিয়ম ভেঙে পার্কিং করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশপ্রিয় পার্ক থেকে কসবা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ঢল ব্যারিকেডের মধ্যে আটকে রাখতেও ব্যর্থ হয়েছেন ভলান্টিয়াররা। পুলিশি নজরদারি কম থাকাতেই কি এই পরিস্থিতি? উঠছে প্রশ্ন। যদিও পুজোর সময় এবার দেদার কেস দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আম জনতার। লালবাজারের খতিয়ান বলছে, প্রথম সপ্তমীতে ট্রাফিক বিধি ভঙ্গ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ওইদিন ৮৩৩টি মামলা রুজু করেছিল পুলিশ।



