নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: শহরের একপাশে দিঘির পাড়ে ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মা কালীর আরাধনার জায়গা। অগ্নিযুগে অত্যন্ত গোপনে পুজোয় যোগ দিতেন বিপ্লবী বিমল দাশগুপ্ত, কিষান সাহারা। পুজো হতো শুধু প্রদীপ জ্বালিয়ে। ব্রিটিশ পুলিশ এলেই চম্পট দিতেন বিপ্লবীরা। তবে বর্তমান সময়েও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ওই পুজোর জৌলুস এতটুকু কমেনি। ছবিটা মেদিনীপুর শহরের লালদিঘি এলাকার কালীপুজোর। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এই জেলাতেই বিপ্লবীরা তিন অত্যাচারী ম্যাজিস্ট্রেটকে খুন করেছিলেন। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ইতিহাস ছড়িয়ে। মেদিনীপুর শহরের লালদিঘির এই পুজো বহুকাল ধরে হয়ে আসছে। এলাকার মানুষ এই পুজোয় অংশ নেন। লালদিঘির বাসিন্দা অনুপ সাউ, চন্দন গিরি, শ্যামল দাসরা বলেন, মা খুবই জাগ্রত। রীতি অনুযায়ী অমাবস্যা পড়লেই এখানে ঠাকুর আনা হয়। আর অমাবস্যা শেষ হলেই প্রতিমা বিসর্জন হয়। এখনও পুজোর সময় খুব বেশি আলোর ব্যবহার হয় না এখানে।
প্রসঙ্গত, একসময় মেদিনীপুর ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আঁতুড়ঘর। ব্রিটিশদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালানোর পাশাপাশি পুজো অর্চনাতেও তাঁরা মনোনিবেশ করতেন। সবার চোখের আড়ালে সাধারণ মানুষও বিপ্লবীদের পুজোয় অংশ নিতেন। জানা গিয়েছে, কর্ণেলগোলা থেকে কিছু দূরেই লালদিঘি। এক সময় সেই এলাকা ছিল জঙ্গলে ঘেরা। হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার বাস করতেন। এলাকার বাসিন্দারা জানান, লালদিঘি এলাকা ফাঁকাই থাকত। একইসঙ্গে এই এলাকা থেকে দ্রুত পলায়নও সহজ ছিল। তাই স্বাধীনতা সংগ্রামীরা এই এলাকাকেই কালীপুজোর জন্য বেছে নিয়েছিলেন।
১৯৩৪ সালের পর পুজো শুরু হয় এখানে। এই জায়গাতেই সেই সময় বিপ্লবীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ হতো। তাই এই এলাকার উপর ব্রিটিশ পুলিশ সর্বক্ষণ নজরদারি চালাতো। কিন্তু পুজো কখনও বন্ধ হয়নি। শ্যাওড়া গাছের তলায় পুজোর বাঁধানো জায়গায় হয় মাতৃ আরাধনা। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, লালদিঘির পাশেই মেদিনীপুর শহরের কর্নেলগোলা মন্দিরেরও পুজো প্রায় ২৫০ বছরের পুরনো। এই এলাকার আশপাশেই একাধিক স্বাধীনতা সংগ্রামীর বাস ছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সৌরভ বসু বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের করা এই পুজো বাঁচিয়ে রাখতেই হবে। লালদিঘির পুজোর সুবিধার জন্য একাধিক কাজ করেছি।-নিজস্ব চিত্র