


নয়াদিল্লি: আগামী সোমবার, ২১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে বাদল অধিবেশন। তার আগে শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেছিল ইন্ডিয়া। বৈঠকে অংশ নেয় ২৪ বিরোধী রাজনৈতিক দল। বাদল অধিবেশনে কোন কোন বিষয় তুলকে ধরা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। তৃণমূলের তরফে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জাতীয় ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। বৈঠক শেষে কংগ্রেস নেতা প্রমোদ তিওয়ারি বলেন, আশা রাখছি সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। এরপরই কটাক্ষের সুরে বলেন বিদেশ ভ্রমণের চেয়ে সংসদ অধিবেশন বোধহয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এদিনের বৈঠকে কংগ্রেসের তরফে ছিলেন, সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী। ছিলেন, জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন। এছাড়া, এনসিপি(এসপি)-র শরদ পাওয়ার, উদ্ধব থ্যাকারে, তেজস্বী যাদব, ডিএমকের ত্রুচি শিবা, সিপিএমের এম এ বেবি, সিপিআইয়ের ডি রাজা ও সিপিআইএমএল-এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্য সহ আরও অনেকে। আলোচনার শুরুতেই উঠে আসে বিহারের প্রসঙ্গ। সামনেই ওই রাজ্যের নির্বাচন। তার আগে বিহারে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) শুরু করেছে কমিশন। এই ইস্যু নিয়ে বাদল অধিবেশনে আলোচনার দাবি তুলবে বিরোধীরা। এছাড়া পহেলগাঁও হামলা, অপারেশন সিন্দুর সহ একাধিক বিষয় বাদল অধিবেশন সামনে আনা হবে বলেই ঠিক করেছেন ইন্ডিয়া জোটের সদস্যরা। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'পহেলগাওয়ে এতবড় কাণ্ড হয়ে গেল। ব্যর্থ হল আইবি। কিন্তু আইবি প্রধানের মেয়াদ বাড়ল।' তাঁর পরামর্শ, বিদেশ নীতি যথাযথ করা উচিত। বিহার প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, বিহারের এসআইআর এর পর, বাংলায় তা প্রয়োগ করতে চায় কেন্দ্র। এটি আসলে নোটবন্দির পর ভোটবন্দি। এই ইস্যুতে সংসদে চেপে ধরা উচিত কেন্দ্রীয় সরকারকে। এছাড়া পেগাসাস ইস্যু নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন অভিষেক।
ট্রাম্প যেভাবে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধের কৃতিত্ব দাবি করেছেন তা কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্নও বাদল অধিবেশনে তুলবে ইন্ডিয়া। বাদ যাবে না বিচারপতি ভার্মার প্রসঙ্গও। আসন্ন অধিবেশনে, কংগ্রেস নেতৃত্ব জম্মু-কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানাবে। এছাড়া দেশজুড়ে মহিলাদের উপর হওয়া অত্যাচার নিয়েও সরব হবেন হাত শিবিরের সাংসদরা। পাশাপাশি, কৃষকদের সমস্যা, বেকারত্ব নিয়ে বাদল অধিবেশনে সরব হবেন বিরোধীরা। আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ নিয়েও আলোচনার দাবি উঠবে। দুর্ঘটনার নেপথ্যে নিরাপত্তার গাফিলতি নাকি অন্য কোনও কারণ, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাবেন বিরোধীরা। শীঘ্রই মুখোমুখি বৈঠকে বসবেন বিরোধী জোটের নেতারা। বৈঠকের পর এমনটাই জানিয়েছে কংগ্রেস।