নয়াদিল্লি: প্রতিষ্ঠার শতবর্ষে দেশজুড়ে সংগঠন আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। সেই সঙ্গেই অবসরগ্রহণের বয়স ৭৫ বছরে বেঁধে ফেলার বিষয়ে যে রাজনৈতিক চর্চা চলছে, তা নিয়েও এবার অবস্থান স্পষ্ট করার সচেতন প্রয়াস শুরু হল। ঘটনাচক্রে, চলতি বছরেই ৭৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। ফলে তাঁর রাজনৈতিক অবসর নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। নেপথ্যে স্বয়ং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের একটি মন্তব্য। সম্প্রতি তিনি বলেছিলেন, কখন পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে, নেতাদের তা জানা উচিত। বিরোধী শিবির ভাগবতের ওই মন্তব্যকে হাতিয়ার করছে। তাদের ব্যাখ্যা, অবসরগ্রহণ নিয়ে পরোক্ষে প্রধানমন্ত্রী মোদিকেই বার্তা দিয়েছেন আরএসএস প্রধান। যদিও বিরোধীদের সেই ব্যাখ্যায় এবার জল ঢাললেন আরএসএসের প্রবীণ এক নেতা। তাঁর বক্তব্য, সঙ্ঘের সংবিধানে কোথাও বলা নেই ৭৫ বছর বয়স হলেই অবসর নিতে হবে। প্রতিটি সংগঠনেরই তার নিজস্ব শর্তে চলা উচিত।
দেশজুড়ে সংগঠন বিস্তারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে আরএসএস। সংগঠন সূত্রে খবর, অক্টোবরের মধ্যে গোটা দেশে এক লক্ষ শাখা খোলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। বাংলায় আরএসএসের টার্গেট মোট ২ হাজার ১৮টি শাখা খোলা। পশ্চিমবঙ্গ অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকলেও এই রাজ্যে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে আরএসএস সূত্রে দাবি। আরএসএসের এক প্রবীণ নেতার অভিযোগ, বাংলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক হিংসা। তাঁর অভিযোগ, স্বয়ং আরএসএস প্রধান ভাগবতের সভাতেও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর সভার জন্যও আমাদের আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে শোরগোল চলছে দেশজুড়ে। সেই প্রেক্ষিতেই আরএসএসের বক্তব্য, দেশে জাতীয় ভাষা অনেকগুলি থাকতেই পারে। কিন্তু একটি সংযোগকারী ভাষা থাকা উচিত। বৈদেশিক সম্পর্ক ইস্যুতে আরএসএস সূত্রে বলা হয়েছে, আমরা কখনও বলিনি চীন ভারতের চিরকালীন শত্রু। আমাদের সবার সঙ্গেই সম্পর্ক রেখে চলতে হবে। কিন্তু দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে স্থান দিতে হবে।