


ভোপাল: অবসরের পর কর্মীদের উপহার হিসাবে রুপোর কয়েন দিয়েছিল ভারতীয় রেল। এমন ‘দামী’ উপহার পেয়ে খুশিই হয়েছিলেন ওই কর্মীরা। কিন্তু কোনো কারণে সেই রুপোর কয়েন বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁদের কয়েকজন। আর তখনই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওই কয়েনে রুপোর পরিমাণ মাত্র ০.২৩ শতাংশ। বাকি সবটাই তামা। ভোপালের ওই ঘটনায় শোরগোল শুরু হয়েছে রেলের অন্দরেই। প্রাপকরা সবাই পশ্চিম-মধ্য রেলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। ডি কে গৌতম নামে রেলের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বলেন, ‘ভেবেছিলাম, অফিস থেকে স্মারক হিসেবে ওই রুপোর কয়েন দেওয়া হয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, তা তামার কয়েন। আমরা প্রতারিত বোধ করছি। আমাদের অপমান করা হয়েছে।’ ভোপালের বাজারিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন গৌতম। অস্বস্তির মুখে তড়িঘড়ি পশ্চিম-মধ্য রেলের ভিজিলেন্স আধিকারিকরা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
কিন্তু এই ‘দুর্নীতি’ হল কীভাবে? রেলের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ভায়াবেল ডায়মন্ডস নামে ইন্দোরের একটি সংস্থাকে ৩ হাজার ৬৪০টি রুপোর কয়েন তৈরির বরাত দেওয়া হয়। প্রতিটি কয়েনের দাম ধরা হয় আড়াই হাজার টাকা। তারা ৩ হাজার ৬৩১টি কয়েন রেলকে দিয়েছিল। এর জন্য ৯০ লক্ষ টাকাও পায় ওই সংস্থা। তবে, তখন কেন কয়েন পরীক্ষা করে দেখা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও ওই সংস্থাকে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করা হয়েছে। পশ্চিম-মধ্য রেলের সিআরপিও নাভাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, রেল এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। রেলের ভিজিল্যান্স টিমও তদন্ত শুরু করবে। তবে, ভায়াবেল ডায়মন্ডসের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরেই উত্তর রেলওয়ের লখনউ ডিভিশন ভালো কাজের জন্য কর্মীদের মেডেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর জন্য ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা তারা পায়। কিন্তু পরে দেখা যায়, যে মানের মেডেল পাঠানো হয়েছে, তার দাম ৩০-৪০ লক্ষ টাকার বেশি নয়।