নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বিমাকর্মীর বিরুদ্ধে ৪০লক্ষ টাকা লোপাটের অভিযোগ। এনিয়ে কাঁথি থানার দ্বারস্থ হলেন শহরের নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চন্দ্রামণি ব্রাহ্ম গার্লস হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মনীষা সরকার। তাঁর বাড়ি কাঁথি শহরের আঠিলাগড়িতে। মনীষাদেবী গ্লুকোমায় আক্রান্ত। চোখে ঠিকমতো দেখতে পান না। ২০২৪ সালে মে মাসে মহারাষ্ট্রে ব্যাঙ্কে কর্মরত একমাত্র ছেলে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তার চার বছর আগে পুত্রবধূও মারা গিয়েছে। স্বামী, সন্তান হারিয়ে অসহায় হয়ে যাওয়া ওই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা বিমা সংক্রান্ত কাজকর্ম সারতে সংস্থারই এক কর্মীর উপর আস্থাশীল হয়ে পড়েছিলেন। টাকা জমা, তোলা, ট্রান্সফার প্রভৃতি কাজে ওই কর্মীর সহযোগিতা পেতেন। সেই কর্মীই মনীষাদেবী এবং তাঁর প্রয়াত ছেলে দেবলীনের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড এবং মোবাইল নম্বর ক্লোন করে ৪০লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।
গত ৩ডিসেম্বর মনীষাদেবী কাঁথি থানায় ওড়িশার বালেশ্বর জেলার মৈতাপুর এলাকার বাসিন্দা ওই কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন। ওই যুবক দীর্ঘদিন কাঁথি ব্রাঞ্চে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে নিজের রাজ্যে বদলি হয়ে যান। এক সপ্তাহ আগে ওই প্রাক্তন শিক্ষিকা প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারেন, তাঁর নিজের ও ছেলের অ্যাকাউন্ট থেকে দফায় দফায় টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি, কেনাকাটা করার পর অনলাইনে দেদার পেমেন্টও করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর তিনি এক সপ্তাহ আগে ওই বিমা অফিসে ছুটে যান। গিয়ে জানতে পারেন, ওই কর্মী এখন আর কাঁথিতে কর্মরত নেই। তিনি নিজের রাজ্যে বদলি হয়ে গিয়েছেন।
আপনজনদের পরপর মৃত্যুর ধকল মনীষাদেবীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। পরপর স্বামী, পুত্রবধূ এবং একমাত্র পুত্রকে হারিয়েছেন। এই অবস্থায় একেবারে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছেন। দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যাওয়ায় অন্যের উপর ভরসা করা ছাড়া উপায় ছিল না। বিমা অফিসে যাতায়াতের সুবাদে ওই কর্মীর সঙ্গে আলাপ হয়। সেই কর্মীর ব্যবহারে তাঁর উপর আস্থাশীল হয়ে পড়েছিলেন মনীষাদেবী। কিন্তু, বাইরে ভালো মুখের আড়ালে আসল মুখোশটা তিনি বুঝতে পারেননি। বেশকিছু চেক ও স্লিপে ওই শিক্ষিকাকে সই করিয়ে টাকা তোলা হয়েছে। এছাড়াও এটিএম কার্ড ব্যবহার করে দফায় দফায় টাকা তোলার ঘটনা ঘটেছে। মনীষাদেবী বলেন, ওই বিমা কর্মী প্রতারণার ঘটনায় সরাসরি যুক্ত। প্রথমে ফান্ড ট্রান্সফার, টাকা তোলা এবং জমার কাজে সহযোগিতা করত। তারপর সুযোগমতো আমার ও ছেলের অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৪০লক্ষ টাকা সরিয়ে নিয়েছে। অনলাইনে টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে। আমি থানায় এনিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছি। আমার অসহায় অবস্থা সম্পর্কে পুলিশকেও জানিয়েছি। আশাকরি, পুলিশ উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে। পুলিশ জানিয়েছে, এফআইআর হয়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।