Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীকে খুন, কম্বল চাপা আধপোড়া দেহ উদ্ধার বাথরুমে

বাগডোগরায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীকে খুন করে দেহ জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা! অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় কম্বলে মোড়ানো দেহ উদ্ধার ঘরের বাথরুম থেকে।

অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীকে খুন, কম্বল চাপা আধপোড়া দেহ উদ্ধার বাথরুমে
  • ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বাগডোগরা: বাগডোগরায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীকে খুন করে দেহ জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা! অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় কম্বলে মোড়ানো দেহ উদ্ধার ঘরের বাথরুম থেকে। তথ্য লোপাটের জন্য ঘরের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক নিয়ে চলে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই সোমবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাগডোগরা থানার অন্তর্গত চৌপুকুরিয়ার ব্যারবস্তিতে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান,দুষ্কৃতীরা খুন করে দেহ কম্বল দিয়ে ঢেকে রেখে গিয়েছে। 

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সোনাম শেরিং তামাং (৬৮)। চৌপুকুরিয়ার ওই বাড়িতে একাই থাকতেন তিনি। তাঁর বড় মেয়ে প্রেমা তামাংয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তিনি কালিম্পংয়ে থাকেন। ছেলে গয়া তামাং কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। বিপত্নীক এই প্রাক্তন সেনাকর্মীকে এক সপ্তাহ ধরে এলাকায় দেখা যাচ্ছিল না। স্থানীয়দের সন্দেহ হওয়ায় সোমবার তাঁরা সোনাম শেরিংয়ের মেয়ে প্রেমাকে খবর দেন। এরপর মেয়ে সহ আরও কয়েকজন আসেন। ঘরের সামনে যেতেই তাঁরা দুর্গন্ধ পান। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে বাগডোগরা থানার পুলিশ এসে বাথরুমে ওই বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার করে। 
অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় একটি মোটা কম্বলে মোড়ানো ছিল দেহটি। বাথরুমের বিভিন্ন জায়গায় রক্তের দাগ মিলেছে। পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, মনে করা হচ্ছে এক সপ্তাহ আগে খুন করা হয়েছে। দেহ লোপাটের জন্য আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। 
মৃতের ছেলেও খবর পেয়ে বাড়ি চলে আসেন। গয়া তামাং বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমেই খবর পেয়ে চলে আসি। দেখি ঘরের দরজা বন্ধ। তবে গন্ধ ছড়াচ্ছিল। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকা হয়। ঘরে ঢুকে দেখতে পাই ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র ওলটপালট অবস্থায়। রান্নাঘর থেকে বাথরুম পর্যন্ত রক্তের দাগ। এমনকী ঘরের মেঝেতে রাখা একটি কার্পেট বাথরুমে নিয়ে গিয়ে তার ওপর দেহ রেখে জ্বালানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও বুঝতে পেরেছি আমরা। 
মৃতের মেয়ে প্রেমা তামাং বলেন, বিয়ের পর থেকে আমি কালিম্পংয়ে থাকি। ভাই কাজের সূত্রে বাইরে থাকে। সোমবার সকালে স্থানীয়রা খবর দিলে এসে দেখি কেউ বাবাকে খুন করে চলে গিয়েছে। ঘরের প্রচুর জিনিসপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকী সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক ও মেশিনপত্রও খুলে নিয়ে গিয়েছে। দুষ্কৃতীরা ছাদের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেছিল। পুলিশকে সমস্ত বিষয়ে জানানো হয়েছে। 
সোমবার এই ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে বাগডোগরায়। এ বিষয়ে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, ওই ঘর থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক টিম পাঠানো হবে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  ঘটনাস্থলে ভিড়। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ