নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বীরভূমে বিস্ফোরক উদ্ধার সংক্রান্ত একটি মামলায় এনআইএ’র হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলবন্দি ছিলেন এক ব্যক্তি। তাঁর জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু জামিনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন তাঁর স্ত্রী। বিভিন্ন লোকের পরামর্শ নিচ্ছিলেন। সেই সময় তরুণীর সঙ্গে আলাপ হয় প্রাক্তন এক সেনাকর্মীর। সেনায় হাবিলদার হিসেবে কাজ করা ওই ব্যক্তি তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, বিভিন্ন স্তরে তাঁর যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে জামিনের ব্যবস্থা করে দেবেন। এর পিছনে যে মস্ত কুমতলব রয়েছে, বুঝতে পারেননি তরুণী। জামিন সংক্রান্ত জরুরি আলোচনার কথা বলে তাঁকে কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে ডেকে এনে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন সেনাকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে মুজিবর রহমান নামে অভিযুক্তকে বুধবার রাতে ওয়াটগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পার্ক স্ট্রিট থানা। ধৃতের বিরুদ্ধে ধর্ষণ সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা বীরভূমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে রয়েছেন। বছর দু’য়েক আগে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় জেলা পুলিসের হাত থেকে তদন্তভার যায় এনআইএর হাতে। কেন্দ্রীয় এজেন্সি ওই তরুণীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করে। এই মামলার ভবিষ্যৎ কী হতে পারে এবং স্বামীর জামিন কীভাবে মিলবে—এসব নিয়ে একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করেন অভিযোগকারিণী। গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সুবাদে তাঁর কাছে প্রতিদিনই বাইরের লোকজনের যাতায়াত ছিল। সেভাবেই বছর খানেক আগে তাঁর কাছে আসেন অভিযুক্ত মুজিবর। কথা প্রসঙ্গে স্বামীর জামিনের বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। তিনি তরুণীকে জানান, সেনায় দীর্ঘদিন কাজ করার কারণে কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিভিন্ন অফিসারের সঙ্গে তাঁর ভালো পরিচয় রয়েছে। এনআইএ’র অফিসাররা মাঝেমধ্যেই তাঁর অফিসে আসতেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথাও হয়েছে। কলকাতার বড় আইনজীবীদের সঙ্গেও তাঁর পরিচয় আছে। জামিনের ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
এর কিছুদিন পর অভিযুক্ত ব্যক্তি তরুণীকে জানায়, এনআইএর সঙ্গে কথা ‘ফাইনাল’ হয়ে গিয়েছে। তবে তরুণীকে একবার কলকাতা যেতে হবে তাঁর সঙ্গে। সেখানে এনআইএ অফিসার ও আইনজীবীদের সঙ্গে কিছু আলোচনা রয়েছে। সেই কথায় বিশ্বাস করে বছরখানেক আগে পার্ক স্ট্রিট এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে এসে ওঠেন তরুণী। নির্যাতিতার বক্তব্য, সেখানে কেউ ছিলেন না। হোটেলের রুমে তাঁকে ধর্ষণ করে ওই প্রাক্তন সেনাকর্মী। একথা প্রকাশ্যে না আনার জন্য হুমকি দেন। সেই ভয়েই নির্যাতিতা তখনই বিষয়টি কাউকে জানাননি। মুজিবর তরুণীকে জানান, অল্প কয়েক দিনের মধ্যে জামিন হবে তাঁর স্বামীর। মাস দুই আগে তাঁর স্বামী জামিন পেলে গোটা বিষয়টি তরুণী তাঁকে জানান। তখনই স্পষ্ট হয়ে যায়, প্রাক্তন ওই সেনাকর্মী তাঁর স্বামীর জামিনের জন্য কিছুই করেননি। তাঁর অসহায়তার সুযোগ নিয়েছেন কেবল। এরপরই তিনি পার্ক স্ট্রিট থানায় ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ করেন। ইতিমধ্যে মহিলা আদালতে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিস সূত্রে খবর, অভিযোগ হয়েছে জানতে পেরেই মুজিবর পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। বদলে ফেলেছিলেন মোবাইল নম্বরও। তাঁর নতুন ফোন নম্বরের সূত্র ধরেই পুলিস ওয়াটগঞ্জ এলাকায় হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।