নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: যুবককে ডেকে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। মৃতের নাম গোপাল হালদার। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে সোনারপুর থানার কামরাবাদে। ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, আম্বেদকর নগরের হাজরা পরিবারের বড়ো ছেলে লাল্টু হাজরা খুন হয়েছিলেন বছর দেড়েক আগে। সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসাবে গ্রেপ্তার করা হয় গোপালকে। কিছুদিন বাদে তিনি জামিন পেয়ে যান।
বৃহস্পতিবার গোপাল ও তাঁর দুই সঙ্গী কামরাবাদের আম্বেদকর নগরের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় বাইক খারাপ হয়ে যায়। স্থানীয় একটি গ্যারাজে সেটি সারাই করার সময় এক যুবক তাঁর ছবি তোলে। পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, সেই ছবি পল্টু নামে এক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ বাদে কয়েকজন এসে গোপালকে তুলে নিয়ে যায়। তাঁর দুই সঙ্গী তখন পালিয়ে যায়। যুবককে লাল্টুর বাড়ির সামনে নামানো হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পরিবারের লোকজন সহ প্রতিবেশীদের অনেকে। এরপর লাল্টুর বাড়ির লোকের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে গোপাল বলে অভিযোগ। লাল্টুর বাবা কেবো হাজরা বলেন, আমার হাত মুচড়ে দেয় গোপাল। বাড়িতে ঢুকে হামলা করার চেষ্টা করেছিল ও। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে পাড়ার লোকজন ছুটে আসেন। উপস্থিত হন লাল্টুর দুই ভাই পল্টু, পিন্টু এবং তাঁদের মা। এরপর সবাই মিলে গোপালকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। মাথায় গুরুতর চোট লাগার কারণে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় যুবকের। লাল্টুর দুই ভাই ও মা এবং যে যুবক গোপালের ছবি তুলে পাঠিয়েছিলেন, তাঁকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, লাল্টুর খুনের বদলা নিতেই গোপালকে ডেকে মারধর করে খুন করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে আরও গভীর তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। এদিকে পুলিশের দাবি, গোপালের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল। থানার খাতায় তিনি একজন হিস্ট্রি শিটার বা কুখ্যাত অপরাধী।