নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দুর্গাপুর কাণ্ডের পর হস্টেলের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। রাত ১১টার পর হস্টেল থেকে ডাক্তারি পড়ুয়াদের বাইরে বের হতে হলে নিরাপত্তারক্ষীকে পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। রাতে ছাত্র হস্টেলে ছাত্রীদের যাতায়াতের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। হস্টেল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তায় টহলদারি বৃদ্ধির জন্য পুলিশের কাছে কর্তৃপক্ষ আবেদন করেছে। বুধবার মেডিকেল কলেজ কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তের কথা নির্দেশিকা আকারে ছাত্রছাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হবে বলে মেডিকেলের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। আধিকারিকদের মতে, দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের নির্যাতিতা ছাত্রী রাতে বন্ধুর সঙ্গে বের হয়েছিলেন। কলেজ থেকে বেশকিছুটা দূরে জঙ্গলে তাঁর উপর অত্যাচার চালানো হয়। ফলে রাতে ছাত্রছাত্রীদের হস্টেল থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করলে অবাঞ্চিত ঘটনা এড়ানো যাবে।
বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অর্পণকুমার গোস্বামী বলেন, ছাত্র হস্টেল রবিন হলে দুটি ক্যান্টিন রয়েছে। এতদিন ধরে সেখানে ছাত্রীরা নৈশভোজ সারতে যেত। এবার থেকে আর রাতে ওই হস্টেলে যাওয়া যাবে না। ছাত্রীদের হস্টেলগুলিতেও একটি করে ক্যান্টিন রয়েছে। এছাড়াও হাসপাতাল চত্বরে সেন্ট্রাল ক্যান্টিন চালু করা হয়েছে। সেখানে ছাত্রীরা খাওয়াদাওয়া করতে পারবে। রাত ১১টার পর হস্টেল থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের নিজ নিজ পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। নিরাপত্তারক্ষী তা দেখে রেজিস্টারে তথ্য লিপিবদ্ধ করে রাখবেন। পুলিশের ‘পিঙ্ক মোবাইল ভ্যান’ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় নিয়মিত টহল দেয়। পুলিশি টহলদারি বাড়ানোর জন্য বাঁকুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডাক্তারি পড়ুয়াদের হস্টেল থেকে রাতবিরেতে হাসপাতালে যেতে হয়। সেক্ষেত্রে আমরা কারও গতিবিধি রুখে দিচ্ছি না। শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষা কথা মাথায় রেখেই নজরদারি বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
বাঁকুড়া মেডিকেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ছাত্রদের জন্য পাঁচ ও ছাত্রীদের জন্য দু’টি হস্টেল রয়েছে। হস্টেলে ৪০০জন ছাত্রী থাকে। মেডিকেল কলেজে স্নাতকস্তরে ১০০০জন পড়ুয়া, ইন্টার্ন ২০০ জন, হাউস স্টাফ ৭০ জন ও স্নাতকোত্তরস্তরে পিজিটি এবং সিনিয়র রেসিডেন্ট মিলিয়ে প্রায় ৩২০ জন রয়েছেন। ফলে সবমিলিয়ে ডাক্তারি পড়ুয়ার সংখ্যা ১৬০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। তারমধ্যে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েই কর্তৃপক্ষ বেশি চিন্তিত। বাঁকুড়া সম্মিলনীর ক্ষেত্রে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পৃথক ক্যাম্পাস রয়েছে। দু’টি ক্যাম্পাসের মধ্যে প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্ব রয়েছে। এছাড়াও কলেজের হস্টেলগুলিও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মেন রোড ধরে ছাত্রছাত্রীদের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। এর আগে ছাত্রীদের হস্টেলে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। আর জি কর কাণ্ডের সময় ওই ঘটনা ঘটেছিল। তার আগেও ছাত্রী হস্টেলে অবাঞ্ছিত অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছিল। মেডিকেল কর্তৃপক্ষ কড়া অবস্থান নেওয়ায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যাবে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।