সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: হ্যাঁরে অমিত, কাল সকাল সকাল আমাকে কলবাঁশ হাটতলায় নিয়ে যাওয়ার কথাটা মনে আছে তো। ডাক্তার অনেকগুলি টেস্ট দিয়েছে। দেরি করলে ভিড় হয়ে যাবে। এদিকে, শুনেছি গ্রামে কী একটা গাড়ি আসবে। ওই গাড়িতেই নাকি সব থাকবে। রবিবার বিকেলে নাতিকে এইভাবেই সোমবার হাসপাতালে যাওয়ার কথাটা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন আমতা বিধানসভার গাজিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা গুরুপদ পাল। তিনি দিনকয়েক আগেই শুনেছিলেন, গ্রামে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্র আসছে। সেখানেই সবরকম পরীক্ষা থেকে চিকিৎসা হবে। পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হবে।
শুধু গুরুপদবাবু একা নন। ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্রের খবর শোনার পর থেকেই পঞ্চানন মাইতি, রতন সাউ, সমীর মণ্ডলদের এক অবস্থা। সকলের একটাই লক্ষ্য, সোমবার সকাল সকাল গ্রামে আসা ওই গাড়ির কাছে পৌঁছতেই হবে। শনিবার আমতা বিধানসভা এলাকায় পৌঁছেছে এই ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্র। তারপর থেকেই এই গাড়িটি নিয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রবীণদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। তাঁদের মত, গ্রামে আসবে ডাক্তারের গাড়ি! এতো মনে হচ্ছে হাতে চাঁদ পাওয়া গেল।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার থেকে এই ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্রটি আমতা বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরবে। আমতা ২ ব্লকের ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতে এবং বাগনান ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় যাবে সেটি। শনিবার পর্যন্ত সেটি বিভিন্ন অঞ্চলের প্রান্তিক জায়গায় গিয়ে মানুষকে পরিষেবা দেবে। গাড়িতে ৩৫ রকমের রক্তের পরীক্ষা, চোখের পরীক্ষা, ইসিজি সহ বিভিন্ন পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। এর মধ্যে বিভিন্ন দিনে স্পেশাল ক্লিনিকের ব্যবস্থাও থাকবে। সোমবার সেটি গাজিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কলবাঁশ হাটতলায় যাবে। মঙ্গলবার গাড়িটি থাকবে মানকুরঘাটে।
বিধায়ক সুকান্ত পাল জানান, মুখ্যমন্ত্রী এই ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্রটি উদ্বোধন করার পর আমতা বিধানসভা এলাকায় এসে পৌঁছেছে। গাড়িটি প্রত্যন্ত এলাকায় যাবে। ফলে অনেক মানুষের উপকার হবে।