সংবাদদাতা, মানকর: বুধবার কাঁকসার সুভাষপল্লিতে সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে সরব হলেন বাসিন্দারা। স্থানীয়দের প্রতিরোধের চাপে পিছু হটে জমি দখলকারীরা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, জমি মাফিয়ারা ডিপিএলের জমি দখল করার চেষ্টা করছে। এর আগেও মাফিয়ারা ওই জায়গা দখল করার চেষ্টা করেছিল। তখনও স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করেছিলেন। এদিনও সেই একই ঘটনা ঘটেছে। কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। বিএলএলআরও অফিসে ওই জমির তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি আমরা নজরে রাখছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঁকসার সুভাষপল্লিতে পুরনো ফায়ার ব্রিগেডের কাছে ডিপিএলের একটি জায়গা দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। এলাকার বাসিন্দাদের কাছে এটি ‘সরকারি জমি’ বলে পরিচিত। বুধবার সেই জমিতেই পিলার পুঁতে তারের জাল দিয়ে ঘেরা হচ্ছিল। স্থানীয়দের নজরে আসতেই পিলার ভেঙে ফেলা হয়। সরিয়ে দেওয়া হয় জাল। তখনই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। স্থানীয় বাসিন্দা শিখা দাস বলেন, জমি ঘিরতে এলে বারণ করি। আমি বলি এটা ডিপিএলের জায়গা। প্রতিবাদ করায় আমাকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অপর বাসিন্দা কুণাল দাস বলেন, এটা সরকারি জায়গা। কিছু লোক পিলার দিয়ে ঘিরে জায়গা দখল করে নিতে চাইছে। লোকের বাড়ি যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছে। এলাকায় দাদাগিরি করছে। তবে পাড়ার লোক সবাই প্রতিবাদ করেছি বলে জায়গাটা বাঁচল। এদিন ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা জানান, এক মাস আগে এই জায়গার চারিদিকে বেড়া দেওয়ারও চেষ্টা করেছিল জমি কারবারিরা। সেবারও স্থানীয়রা প্রতিবাদ করেন। এক বাসিন্দা বলেন, সরকারি জায়গা দখল করার অধিকার কারও নেই। সেবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে গণডেপুটেশন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ফের একই ঘটনা ঘটল। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সরকারি জমি বেহাত হয়ে গেলে আর কিছু করার থাকবে না। জমি মাফিয়ারা চড়া দামে ওই জমি বিক্রি করবে। এলাকার সুস্থ পরিবেশ নষ্ট করে দেবে। তাঁরা জানান, অনেক সময় ভুয়ো দলিল দেখিয়ে সরকারি জমি দখল করার চেষ্টা করা হয়। এখানেও জমি ঘিরতে আসা ব্যক্তিরা ওই জমিকে নিজেদের বলে দাবি করেছে। যদিও কোনও নথি তারা দেখায়নি। এদিন ঘটনার পর এলাকার বাসিন্দারা জমি সংলগ্ন একটি গাছে ফ্লেক্স টাঙিয়ে দেন। তাতে লেখা সুভাষপল্লি শিশুউদ্যান।তবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল অভিযোগ করে বলেছিলেন, বিজেপি এইভাবে এলাকা অশান্ত করছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, যে জমি নিয়ে এই ঘটনা, তার কাছেই ব্লকের বিএলএলআরও অফিস। কিন্তু ওই জমির মালিককে তা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক লড়াইয়ের বদলে গুজব রাটানো হচ্ছে, বিজেপি ওই জমি দখল করতে চাইছে। মিথ্যা ইস্যু বানিয়ে বিজেপিকে বদনামের চেষ্টা করা হচ্ছে।