Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নর্দমার জমা জলে মশার লার্ভার বাড়বাড়ন্ত, প্রবল দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষ্ণনগর শহরের ৭নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা

কৃষ্ণনগর শহরের ৭নম্বর ওয়ার্ডে মশার প্রকোপ দিনদিন বাড়ছে। নর্দমায় জমে থাকা নোংরা জলে মশার লার্ভার সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নর্দমার জমা জলে মশার লার্ভার বাড়বাড়ন্ত, প্রবল দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষ্ণনগর শহরের ৭নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা
  • ২৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর শহরের ৭নম্বর ওয়ার্ডে মশার প্রকোপ দিনদিন বাড়ছে। নর্দমায় জমে থাকা নোংরা জলে মশার লার্ভার সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে সিঁটিয়ে এলাকাবাসী মানুষজন। এমনিতেই নর্দমার নোংরা জল দীর্ঘদিন ধরে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে পচে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তার উপর সারাদিনই মশার উপদ্রবে মানুষ বিরক্ত হচ্ছে। স্থির জল হল ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়া ছড়ানো মশার প্রধান আঁতুড়ঘর। নিকাশি ব্যবস্থার এহেন বেহাল দশার জেরে শহরের ৭নম্বর ওয়ার্ডের বাচ্চা, বয়স্ক থেকে শুরু করে সকলেই স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কায় রয়েছেন।
এবিষয়ে ৭নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার গৌতম মালাকার বলেন, আগে নিয়মিত নর্দমা পরিষ্কার করা হতো। তখন সমস্যা ছিল না। বর্ষার মরশুমে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ওষুধ স্প্রে করা যাচ্ছিল না। এখন বৃষ্টি কমেছে। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেব।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পুরসভার তরফে আগে মাঝেমধ্যেই এলাকায় ব্লিচিং পাউডার ছড়ানো ও ওষুধ স্প্রে করা হতো। নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার করা হতো। বর্তমানে তেমন কোনও উদ্যোগ আর দেখা যায় না বললেই চলে। ফলে মশার উপদ্রব ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। অবিলম্বে নর্দমা পরিষ্কার এবং নিয়মিত লার্ভিসাইড ওষুধ ছড়ানো না হলে আগামিদিনে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে। মহিশাল পাড়ার বাসিন্দা রূপক দেবনাথ বলেন, নর্দমার জলে তাকালে অসংখ্য লার্ভা দেখা যায়। কয়েকদিনের মধ্যেই সেগুলি বড় হয়ে মশা হচ্ছে। রাত-দিন সবসময় মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, নর্দমার জলে ঠিকমতো ওষুধ স্প্রে করা হয় না। তাই মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে। দোকানে খাবারে মশা-মাছি বসতে দেখে অনেকেই কিনছেন না। আমাদেরও লোকসান হচ্ছে।
কৃষ্ণনগরের চিকিৎসক তাপস পাত্র বলেন, নর্দমার জমা জলে মশার লার্ভা সবচেয়ে দ্রুত জন্মায়। এই আবহাওয়ায় সমস্যা আরও বাড়ছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব থাকলে এবং প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিপদ বাড়তে পারে। বাড়ির আশপাশে জল জমতে দেওয়া যাবে না। সপ্তাহে অন্তত একদিন জমা জল পরিষ্কার করতে হবে। কারও জ্বর, মাথাব্যথা, গায়ে ব্যথা বা র‍্যাশ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Advertisement


 ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জমা জল এভাবেই মশার আতুঁরঘরে পরিণত হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ