Bartaman Logo
৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চুঁচুড়া শহরের রাস্তা সাক্ষাৎ মরণফাঁদ, ক্ষোভে ফুঁসছেন পুর এলাকার বাসিন্দারা

খানাখন্দে ঢেকেছে চুঁচুড়া শহরের সিংহভাগ রাস্তা। তাতে বর্ষায় জল জমছে। তার জেরে একপ্রকার মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে হুগলি জেলা সদরের পুরসভা এলাকার রাস্তা।

চুঁচুড়া শহরের রাস্তা সাক্ষাৎ মরণফাঁদ, ক্ষোভে ফুঁসছেন পুর এলাকার বাসিন্দারা
  • ১৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: খানাখন্দে ঢেকেছে চুঁচুড়া শহরের সিংহভাগ রাস্তা। তাতে বর্ষায় জল জমছে। তার জেরে একপ্রকার মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে হুগলি জেলা সদরের পুরসভা এলাকার রাস্তা। হাঁটা পথে বা অটো, টোটোয় যাতায়াত করতে, সবক্ষেত্রেই আতঙ্কে ভুগছে আমজনতা। 

Advertisement

রাস্তায় ধস নামার সমস্যাও দেখা দিয়েছে। পথের মাঝে আচমকা তৈরি হয়ে যাচ্ছে গর্ত। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ভোগের শেষ নেই। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে নাগরিকদের মধ্যে। পুর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সবর হয়েছে বিরোধীরা।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, সম্প্রতি রথ ও অন্যান্য উৎসবের সময় রাস্তা সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কয়েকটি রাস্তায় শুধুমাত্র তাপ্পি দেওয়া ছাড়া বিশেষ কাজ হয়নি। শহরের প্রাণকেন্দ্র ঘড়িমোড় থেকে যে কোনও রাস্তায় হাঁটলেই খানাখন্দের দেখা মিলবে। কোথাও রাস্তা গিয়েছে বসে। মেরামতের কাজ করা হয়নি বলে বেড়েই চলেছে খানাখন্দ। পুর নাগরিকদের বক্তব্য, সব জানার পরও পুরসভা উদাসীন। চন্দন সরকার নামে এক নাগরিক বলেন, ‘শহরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। বর্ষার জল জমছে। ঘটছে দুর্ঘটনা। হাঁটা প্রায় আতঙ্কের হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ অভিজিৎ বাগ নামে এক টোটোচালক বলেন, ‘বেহাল রাস্তায় চালাতে গিয়ে গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। পুরসভা গর্ত বুজিয়ে দিলে ক্ষতি কম হবে।’ সুরেশ সাউ নামে এক বিজেপি নেতা বলেন, ‘আমরা পুরসভার কাছ থেকে কোনও নাগরিক পরিষেবা প্রত্যাশা করি না। নাগরিকরাও প্রত্যাশা করবেন না, সে আবেদনই করি। কারণ পুরসভা নিজেদের কর্মীদের ঝঞ্ঝাট মেটাতেই বছরভর ব্যস্ত থাকে। নাগরিক পরিষেবা দেবে কখন?’ মনোদীপ ঘোষ নামে এক সিপিএম নেতা বলেন, ‘বর্ষার আগে রাস্তা মেরামত করার নিয়ম। পুরসভার কর্তারা নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি করা নিয়েই ব্যস্ত। এসব পরিকল্পনা করতেই পারেন না। তার ফলেই মানুষকে ভুগতে হয়।’ চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায় বলেন, ‘নতুন রাস্তা তৈরি ও মেরামতের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক কারণে এবার অন্যরকম বৃষ্টি হয়েছে। তার জেরেই সংস্কারের কাজে সমস্যা হয়। আপৎকালীন সমস্যা মেটাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর ধসের সমস্যা একটি পৃথক বিষয়। তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।’ চুঁচুড়ায় জলের পাইপলাইনের সংযোগ থেকে শুরু করে একাধিক কারণে রাস্তা খোঁড়া হয়েছিল। তাকে কেন্দ্র করে রাস্তা কমজোর হয়ে পড়েছিল। অভিযোগ, পরবর্তী সময় কিছু কাজ হলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে বর্ষার সময় রাস্তা ফের বেহাল হয়ে পড়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ