সংবাদদাতা, মানকর: আউশগ্রাম-২ ব্লকের পরিশা গ্রামে ধর্মরাজের গাজনে মাতলেন এলাকার বাসিন্দারা। বুধবার ধর্মারাজকে আটচালায় নিয়ে এসে শেষ হলো গাজন। এদিন হোম, যজ্ঞ সহ একাধিক ক্রিয়াকর্ম করা হয়। প্রতি বছর দশহরাতে গাজন উৎসব হয় এখানে। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী শরণ্যা রায় বলেন, গাজন বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি। পরিশার প্রাচীন গাজনে সকলেই আনন্দে মেতে ওঠেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এটি ধর্মরাজের গাজন। দেবতার নাম স্বরূপনারায়ণ ধর্মরাজ। একসময় গাজন উপলক্ষ্যে যাত্রা, বাউল গানের আসর বসতো। এখন আর তা না হলেও স্থানীয় ছাড়াও ভাতকুন্ডা, ত্রিলোকচন্দ্রপুর সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ গাজন দেখতে ভিড় করেন। গাজনের পুজোর ভার রায় বংশের হলেও গ্রামের সবাই এতে অংশগ্রহণ করেন। এই বংশের সদস্য সুকান্ত রায় জানান, তাঁদের পূর্ব পুরুষ জটাধারী রায় পরিশা গ্রামের একটি পুকুরে ডুব দিয়ে সেখান থেকে ধর্মরাজ, মা মনসা ও দেবী ভদ্রকালীকে নিয়ে উঠেছিলেন। তারপর থেকে ওই দেবতাদের পুজো রায় বংশের সদস্যরাই আয়োজন করেন। গাজনে রায় বাড়ির সদস্যকে সন্ন্যাসী হতে হয়। তিনিই হন প্রধান সন্ন্যাসী। সুকান্তবাবু বলেন, এখানের গাজনে বিশেষ রীতি হল তালগাছ তোলা। গাজনের সন্ন্যাসীরা দেবতাকে চৌডালা করে ওই পুকুরে নিয়ে যান। সেখানে দেবতার পুজো হয়। ব্রাহ্মণ ধর্মরাজের সিংহাসনে পদ্মফুল চাপান। তারপর দেবতাকে মন্দিরে নিয়ে আসা হয়। প্রধান সন্ন্যাসী দেবতার কাছে আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করতে থাকেন। সেই ফুলটি ব্রাহ্মণ সিংহাসন থেকে তুলে প্রধান সন্ন্যাসীকে দেন। ফুলের সঙ্গে গঙ্গাজল, পানসুপারি ইত্যাদি দেওয়া হয়। এরপর প্রধান সন্ন্যাসী যে গাছ তালগাছটি স্পর্শ করেন সেটিকেই শিকড় সমেত তুলে ফেলা হয়। তোলার সময় তাল গাছের কোন অংশ ভেঙে গেলে সেটিকে বাদ দিয়ে আবার নতুন তালগাছ তুলতে হয়। এছাড়া হবিষ্যির সময় সন্ন্যাসীদের কানে আওয়াজ গেলে খাবার খাওয়া সেখানেই বন্ধ রাখতে হয়। এবারে ১৩ জন সন্ন্যাসী হয়েছেন। গ্রামের যে কেউ সন্ন্যাসী হতে পারে। ইতিহাস শিক্ষক রোহিত মাইতি বলেন, ধর্মরাজ আসলে সূর্যের দেবতা। ভিন্নমতে ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতির চাপে সমাজের একশ্রেণির মানুষ বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি আসক্ত হতে উঠতে শুরু করেন। এই সময়ে ধর্মরাজের পুজোর সূচনা হয়। হিন্দু, বৌদ্ধ, তান্ত্রিক ইত্যাদি নানা ধর্ম থেকে অজস্র উপকরণ মিশেছে ধর্মরাজের পুজোর আচারের মধ্যে।-নিজস্ব চিত্র



