সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ভাগীরথীর জল অস্বাভাবিক বাড়ায় প্রায় ১৫ দিন ধরে জলবন্দি নবদ্বীপ ব্লকের মহিশুরা পঞ্চায়েতের নদী তীরবর্তী কার্গিল কলোনি। ভাগীরথীর চরে এই কলোনিতে প্রায় শতাধিক পরিবারের বসবাস। অনেকেই পরিবার নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। তবে এখনও অনেকেই পরিবার নিয়ে এই জলের মধ্যেই থেকে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ওই সব জলবন্দি মানুষের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত ত্রাণ পাননি তাঁরা।
নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তাপস ঘোষ বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত। ওখানে কেউ স্থায়ী ভাবে, কেউ অস্থায়ী ভাবে নদীর চরে বসবাস করছেন। তাঁরা আমাদের ব্লকে বা পঞ্চায়েতের নথিভুক্ত নয়। এসব সত্ত্বেও তাঁরা নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতিতে তাঁদের সমস্যার কথা জানালে আমরা তাঁদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।
মঙ্গলবার সকালে মহিশুরা পঞ্চায়েতের কার্গিল কলোনিতে গিয়ে দেখা গেল এখনও জলবন্দি প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি পরিবার। জলের মধ্যেই কেউ বৃদ্ধ মা-বাবা, কেউ ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে রয়েছেন। এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের শ্রমজীবী। কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ জোগাড়ের কাজ করেন। কেউ বা ছোটখাটো ব্যবসা করেন। তাঁদের মুখে একটাই কথা, প্রায় ১৫ দিন হল এই এলাকায় জল ঢুকেছে, কিন্তু কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি। ।
কার্গিল কলোনির বাসিন্দা বৃদ্ধা কৃষ্ণা দাস বলেন, এই চরে ১০ বছর ধরে বাস করছি। স্বামী অসুস্থ। আমার ঘরে ১০ দিন হল জল ঢুকেছে। কেউ খোঁজ নেয়নি, কোন ত্রাণও পাইনি। কার্গিল কলোনির বাসিন্দা গৃহবধু শম্পা ভৌমিক নাগ বলেন, মেয়ে ক্লাস নাইনে পড়ে। ওর পরীক্ষা চলছে। বাড়ি থেকে অন্য জামা পরে বেরচ্ছে, রাস্তায় গিয়ে সেটা পরিবর্তন করে স্কুলে যাচ্ছে। কেউ কিছুই সাহায্য করেনি। এখান থেকে প্রায় ২০টা পরিবার উঠে চলে গিয়েছে। আর এক গৃহবধূ জয়া মণ্ডল বলেন, বাড়িতে হাঁটু জল, কিন্তু রাস্তায় আরও জল। ১৩-১৪ দিন ধরে এই জলের মধ্যে রয়েছি। এই চরে ১০ বছর ধরে বাস করছি।
মহিশুরা পঞ্চায়েতের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য পিন্টু ঘোষ বলেন, পুরসভার মণিপুর ঘাট সংলগ্ন মহিশুরা পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কার্গিল কলোনি। গঙ্গার এই চর সরকারি জায়গা। এখানে প্রায় ৫০টার মতো পাকা বাড়িও রয়েছে। ১৫ দিন ধরে জলের মধ্যে রয়েছেন। ওঁরা কোনও সরকারি ত্রাণ পাননি। এ ব্যাপারে আমরা স্থানীয় বিডিও, পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতিকে বারবার জানিয়েছি। সরকারিভাবে এদের ত্রাণের ব্যবস্থা করা উচিত।