Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামের উদ্বাস্তু কলোনির বাসিন্দাদের জমির রেকর্ড নেই, এসআইআর আতঙ্ক

দেশভাগের পর থেকেই উদ্বাস্তু পরিবারগুলির ঢেউ ঝাড়গ্রামেও আছড়ে পড়েছিল। শহর ও জেলার ১৪ টি উদ্বাস্তু কলোনির বহুসংখ্যক বাসিন্দার আজও জমির দলিলের কোনও রেকর্ড নেই।

ঝাড়গ্রামের উদ্বাস্তু কলোনির বাসিন্দাদের জমির রেকর্ড নেই, এসআইআর আতঙ্ক
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ১৫:০৮
Prefer us on Google

নিজস্বপ্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: দেশভাগের পর থেকেই উদ্বাস্তু পরিবারগুলির ঢেউ ঝাড়গ্রামেও আছড়ে পড়েছিল। শহর ও জেলার ১৪ টি উদ্বাস্তু কলোনির বহুসংখ্যক বাসিন্দার আজও জমির দলিলের কোনও রেকর্ড নেই। ফলে সরকারি সুযোগ, সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা। কেন্দ্রের এসআইআর নিয়ে নতুন করে তাঁদের উদ্বেগ বাড়ছে।

Advertisement

ঝাড়গ্রাম শহরে মোট চারটি উদ্বাস্তু কলোনি আছে। ব্লকের মানিকপাড়া, লোধাশুলির সোলগেড়িয়ায় একটি করে কলোনি রয়েছে। সাঁকরাইল ব্লকে৭টি কলোনি। তৎকালীন পূর্ব বাংলা থেকে উদ্ধাস্ত হয়ে আসা ব্যক্তিদের বসতবাড়ি ও চাষের জমি দেওয়া হয়েছিল ঝাড়গ্রামে।কিন্তু উদ্বাস্ত পরিবারগুলির বর্তমান প্রজন্মজমি, বাড়ি পেলেও আইনের গেরোয় বেশিরভাগ বাসিন্দার রেকর্ড নেই।জমির রেকর্ড না থাকায় উৎপাদিত ফসল কৃষক মান্ডিতে বিক্রির সুযোগ মেলেনা। কম দামে ফড়েদের কাছে ফসল বেচতে হয়। পুনর্বাসনে পাওয়া জমিতে যেসব গাছ লাগানো হয়েছিল সেগুলিও বিক্রি করা যায়না। সরকারি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। পুনর্বাসন প্রকল্পে পাওয়া জমিবিক্রি করতে চাইলেও তার সুযোগ নেই।স্বাধীনতার ৭৯ বছর পরেও উদ্বাস্ত হয়ে আসা পরিবারের সদস্যরা বছরের পর বছর ধরে এই জমিজটের সমস্যায় জেরবার হচ্ছেন। সম্মিলিত কেন্দ্রীয় বাস্তুহারা পরিষদের জেলা কমিটির সদস্যরা দীর্ঘদিন নিজেদের দাবিদাওয়া আদায়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে একাধিক দাবি আদায়ে আবেদন করেছেন তাঁরা।  সংগঠনের তরফে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে,১৯৭১ সালের পর ভারতে আসা শরণার্থীদের পুনর্বাসন ও নাগরিকত্ব দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।সিএএ, এন আরসি , এন পি আর প্রক্রিয়া রদ ও নাগরিকত্ব অর্জনের কোনও সময়সীমা না  রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।দেশের মানুষের নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত করতে ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব আইনও ২০০৩ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাতিলের দাবিও তোলা হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম শহরের সুভাষপল্লি কলোনির বাসিন্দা হেমন্ত মারগুল বলেন, পুনর্বাসন মিললেও কেন্দ্রের এস আই আর নিয়মে নতুন করে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।জমির রেকর্ড নেই। ঠাকুরদা, বাবার জন্মের নথিপত্র আমরা কোথায় পাব? সম্মিলিত কেন্দ্রীয় বাস্তহারা ঝাড়গ্রাম জেলা কমিটির সম্পাদক বিধানচন্দ্র মিস্ত্রি বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে একাধিক দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছি। জেলাশাসকের কাছে আমাদের দাবিদাওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে। উনি সহানুভূতির সঙ্গে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ