সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটালে টানা পাঁচ দফা বন্যার ধাক্কায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ। ফের বৃষ্টির পূর্বাভাসে দিশেহারা এলাকার বাসিন্দা ও চাষিরা। এবছর ইতিমধ্যেই পাঁচবার বন্যার জলে ভেসেছে মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা। এখনও পুরোপুরি জল নামেনি। তারমধ্যেই আবহাওয়ার পূর্বাভাসে নতুন করে আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা। শুক্রবার থেকে ফের ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। ফলে দাসপুর, ঘাটাল, চন্দ্রকোণা, ক্ষীরপাই সহ বিস্তীর্ণ এলাকা আবারও জলের তলায় চলে যাওয়ার আডঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে চাষিদের।
গড়বেতা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়াতেও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ওই সমস্ত এলাকার জল নেমে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এই মহকুমায় ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা। যদিও ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস শনিবার বিকেলে জানান, এখনও সেভাবে নদীগুলির জল বাড়ছে না। প্রশাসন পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। প্রশাসনের প্রাথমিক হিসেবে ঘাটাল মহকুমায় এবার টানা বন্যা পরিস্থিতিতে শুধু রাস্তাঘাটের ক্ষতিই দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫কোটি টাকা। বাঁধ ভেঙে পড়েছে, নিকাশি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত, বহু জায়গায় কাঁচা রাস্তা কার্যত অচল। বাড়িঘর বিধ্বস্ত। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। বিস্তীর্ণ আমন ধানের খেত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বহু জায়গায় আমনের চারা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যেখানে কিছু চারা বেঁচে আছে, সেখানেও জলে পচে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত শস্যবিমার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় কৃষকরা আরও দিশেহারা। অনেকের আশঙ্কা, ফের বৃষ্টি হলে ও আবারও জল নামতে দেরি করলে এবছর চাষ প্রায় ভেস্তে যাবে। এমনিতেই বন্যার জলে দীর্ঘদিন ডুবে থাকার কারণে বহু এলাকায় জলবাহিত রোগ যেমন ডায়ারিয়া, আমাশয় সহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্বাস্থ্যদপ্তরকে এবিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘাটাল মহকুমা শাসকের দপ্তরে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদেরি, মহকুমা শাসক, পুলিস সুপার ধৃতিমান সরকার সহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত থাকছেন। মানসবাবু জানিয়েছেন, বাঁধ মেরামত, নিকাশি ব্যবস্থা সংস্কার ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে আমরা ওয়াকিবহাল। কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। ঘাটালের মানুষ এখনও কার্যত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এখনও বহু মানুষ জলে ডুবে থাকা বাড়িতে বসবাস করছেন। তাঁরা নতুন করে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। চাষিদের কথায়, আমাদের চাষ একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছে। আবার জল বাড়লে ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র যেতে হবে। প্রশাসনের দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সংস্কারের কাজ শুরু হবে। কিন্তু মানুষের প্রশ্ন, এরমধ্যেই ফের বন্যা হলে কী হবে?
• নিজস্ব চিত্র