Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজ আমলের জমির নথি থাকলেও এসআইআর নিয়ে আতঙ্কিত সাবেক ভারতীয় ছিটের বাসিন্দারা

রাজ আমলের জমির নথি রয়েছে। তা হলেও এসআইআর নিয়ে ঘোর আতঙ্কে সাবেক ভারতীয় ছিটমহলের বাসিন্দারা।

রাজ আমলের জমির নথি থাকলেও এসআইআর নিয়ে আতঙ্কিত সাবেক ভারতীয় ছিটের বাসিন্দারা
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: রাজ আমলের জমির নথি রয়েছে। তা হলেও এসআইআর নিয়ে ঘোর আতঙ্কে সাবেক ভারতীয় ছিটমহলের বাসিন্দারা। যাঁরা মৌলবাদি শক্তি ও ভূমি মাফিয়াদের অত্যাচারে ছিটমহল বিনিময়ের আগে ভারতের মূল ভূখণ্ডে আশ্রয় নেন। এবার তাঁদের একাংশ ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায়। তাঁদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠাতে পারেন। এক দশক আগে ছিটমহল সমস্যার অবসান হয়। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বিনিময় হয় ছিটমহলের। এই বিনিময়ের আগে ভারতীয় ‘ছিটমহল’ থেকে দেশের মূল ভূখণ্ডে আশ্রয় নেন অনেকে। তাঁদের একাংশ শিলিগুড়ির মাটিগাড়া, শালবাড়ি, সংলগ্ন একটিয়াশাল, ফুলবাড়ি প্রভৃতি এলাকায় বসবাস করছেন। তাঁরা একদা বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় ছিটমহল কাজলদিঘি, বাঁশকাটা, গরাতি প্রভৃতিতে বসবাস করতেন। সাবেক ছিটমহল কাজলদিঘি ও গরাতি বাংলাদেশের পঞ্চগড়ে এবং বাঁশকাটা বাংলাদেশের লালমণিহাট জেলায় ছিল। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চারিদেকে বাংলাদেশ। মাঝখানে দ্বীপের মতো ছিল ভারতীয় ভূখণ্ড। যার নাম ছিল ভারতীয় ছিটমহল। মৌলবাদি শক্তি ও ল্যান্ড মাফিয়াদের অত্যাচারে বিভিন্ন সময় ওইসব ভারতীয় ছিট থেকে পালিয়ে অনেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে আশ্রয় নিয়েছেন। ২০০২ সালের পরও এখানে এসেছেন অনেকে। তাঁদের বক্তব্য, রাজ আমলের জমির দলিল, খাজনার রসিদ রয়েছে। কিন্তু ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম নেই। এখন কী করবেন বুঝতে পারছেন না। তাঁদের অভিযোগ, এসআইআরের জেরে তাঁদের কপালে জুটতে পারে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর তকমা। যার ফলে বর্তমান ভিটেমাটিও হারাতে পারেন। 
প্রসঙ্গত, একদা ভারতীয় ছিটমহলের সংখ্যা ছিল ১১১টি। সেগুলি বাংলাদেশের মধ্যে ছিল। তাতে জমির পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার একর। আর বাংলাদেশি ছিটমহলের সংখ্যা ছিল ৫১টি। যা ভারতীয় ভূখণ্ডে বাংলাদেশের অংশ। তাতে জমির পরিমাণ ছিল প্রায় ৭ হাজার একর। ২০১৫ সালের দু’দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হয়। বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও ছিটমহল গবেষক দেবব্রত চাকি বলেন, ছিটমহল বিনিমগের সময় যাঁরা এদেশে এসেছে, তাঁদের হয়তো খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হবে না। কিন্তু ছিটমহল বিনিময়ের আগে ভারতীয় ছিট থেকে অত্যাচারিত হয়ে অনেকে দেশের মূল ভূখণ্ড কোচবিহার, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়িতে এসেছিলেন। সেই সংখ্যা কয়েক হাজার হবে। ভোটার তালিকা নিয়ে এসআইআর শুরু হওয়ায় ওই বাসিন্দারা সমস্যায় পড়তে পারেন বলে মনে হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠাব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ